বিমান দুর্ঘটনায় রাগীব রাবেয়া মেডিকেলের ১১ শিক্ষার্থী নিহত

দুর্ঘটনায় লাশের সারি

নেপালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান দুর্ঘটনায় সিলেটের জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জন মারা গেছেন। মোট ১৩ জনের মধ্যে ১১ জন ছাত্রী এবং দুজন ছাত্র। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর মো. আবেদ হোসেন।

নিহতরা সবাই এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করেছে এবং সবাই নেপালী বলে জানিয়েছেন তিনি।

দুর্ঘটনার শিকার রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা হলেন- প্রিন্সি ধামী, সামিনা বেনজারখার, সঞ্জয় পাউডেল, সঞ্জয় মহারজান, নিগা মহারজান, এঞ্জিলা মেবেশন, পুর্নিনো লোহানী, সৌথে থাপা, মিলি মাহারজান, সায়মা সিযোশ, এঞ্জিলা কোরেশ, চারু রবাল, আশনা সকেয়া।

তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রিন্সি ধামী ও সামিনা বেনজারখার নামের দুজন বেঁচে আছেন বলে জানা গেছে।

তাদের সহপাঠীরা জানায়- রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের দুর্ঘটনা কবলিত সবাই ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১১ জন মেয়ে এবং ২ জন ছেলে। গত ১০ মার্চ এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করে সোমবার ইউএস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে তারা সবাই নেপালে তাদের নিজ দেশে বেড়াতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়।

এদিকে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানের ৫২ আরোহীর প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে নেপালের সেনাসূত্র। এছাড়া ৯ জনের নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে তারা। ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিএস-২১১ মডেলের ফ্লাইটটি বিধ্বস্ত হয়। নেপাল টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, ৭৮ জনকে ধারণে সক্ষম ওই বিমানে ৪ জন ক্রু ও ৬৭ যাত্রী মিলে ৭১ জন আরোহী ছিলেন। বিমানের ৩২ আরোহী বাংলাদেশি এবং ৩৩ জন নেপালি।

ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে পৌঁছায় বিমানটি। অবতরণের সময় বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। এরপর বিমানবন্দরের কাছেই একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয় এটি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, যাত্রীদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ, ২৭ জন নারী ও দুইজন শিশু। ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও নেপাল সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ত্রিভুবন বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেমনাথ ঠাকুর জানান, ২৫ জনকে কাঠমান্ডু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ৭ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র গোকুল ভান্ডারি রয়টার্সকে বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ৫০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ থেকে কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।’ ওই সেনা মুখপাত্র জানান, নয়জনের এখনও কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা নিজেরাও এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি কী ঘটেছিল। আমাদের স্টেশন ম্যানেজারও দেশে রয়েছে। বিস্তারিত জেনে আমরা জানাতে পারবো।’

নেপালের বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক সঞ্জীব গৌতম বলেন, রানওয়েতে অবতরণের সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এটা দক্ষিণ দিকে নামার কথা থাকলেও উত্তর দিক দিয়ে নামে। তিনি বলেন, ‘কারিগরি ত্রুটির কারণে এমনটা হয়ে থাকতে পারে। আমরা বিধ্বস্ত হওয়ার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’

আর্নিকো পান্ডে নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী নেপালের সংবাদমাধ্যম মাই রিপাবলিকাকে বলেছেন, রানওয়েতে বাঁক নেওয়ার সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। তিনি বলেন, আমি সংযোগ সড়কে ছিলাম। দেখলাম বিমানটি টার্মিনালকে পেছনে ফেলে দক্ষিণ দিকে দ্রুত বাঁক নিলো। এরপরই রানওয়ে থেকে তা অদৃশ্য হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে বিশালাকার ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। তিনি জানান, খুব নিচে দিয়ে কন্ট্রোল টাওয়ারের ওপর দিয়ে বিমানটিকে উড়তে দেখেছিলেন।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক রাজকুমার চেত্রিকে উদ্ধৃত করে নেপালি সংবাদমাধ্যম মাই রিপাবলিকা জানিয়েছে, বিমানটির ৫০ জনেরও বেশি আরোহী নিহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজকুমার বলেন, ‘আমরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছি। বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি আমরা। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর ত্রিভুবন বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।