‘বিদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসনে দেশিয় সংস্কৃতি হুমকির মুখে’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ‘বিদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসনে দেশিয় সংস্কৃতি হুমকির মুখে। দেশে প্রায় পঞ্চাশটি টিভি স্টেশন আছে, কিন্তু পরিবারের সবাই বিদেশি চ্যানেলেই চোখ রাখেন। শুধু সংবাদ দেখার জন্য দেশি চ্যানেল দেখেন।’ তিনি বলেন, ‘দেশি সিনেমা কবে দেখেছি, এখন আর মনে করতে পারছি না।’

শনিবার (৭ জুলাই) রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির ২৭তম জাতীয় সম্মেলনে এসব কথা বলেন এইচ এম এরশাদ। দেশীয় সংস্কৃতি বিকাশে জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টিকে আরো জোরালো ভূমিকা রাখতে আহবান জানান তিনি।

এসময় এরশাদ বলেন, ‘এখন রাজনৈতিক সংস্কৃতি হচ্ছে প্রতিহিংসা আর প্রতিপক্ষকে ধংস করে দেওয়া। তাই বিরোধী দলে থাকা যায়না, থাকতে হবে সরকারেই। সমাজে শুধু অনাচার আর অবিচার চলছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর নির্যাতন চলছে। হাতুড়ি পেটা করে পা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কারের জন্য একটি কমিটি করে দিয়েছেন, এই কমিটি আরো আগে করলে এত কিছু হতো না।’

এরশাদ বলেন, ‘সামাজিক ব্যাধি ঘুষ ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে দেশ। মাদকের কড়াল গ্রাসে যুব সমাজ ধংসের মুখে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই।’

শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কিছু শিক্ষক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন নেন, কিন্তু ক্লাশে পড়ান না। তাদের কাছে কোচিং না করলে ছাত্ররা পাশ করতে পারেনা। অথচ কোচিং করানো নিষিদ্ধ। একই সময়ে কিছু শিক্ষক বেতনের দাবিতে রাস্তায় শুয়ে অনশন করছে, এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া যায় না।’

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির আহ্বায়ক চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব মাসুদ পারভেজ সোহেল রানার সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি.এম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, গোলাম কিবরিয়া টিপু, সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, সুনীল শুভ রায়, মশিউর রহমান রাঙ্গা, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, মো. আজম খান, মেজর খালেদ আখতার (অব.), শফিকুল ইসলাম সেন্টু, যুগ্ম-মহাসচিব জহিরুল আলম রুবেল, সাংস্কৃতিক পার্টির সদস্য সচিব নাজমুল খান।

চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব মাসুদ পারভেজ সোহেল রানাকে সভাপতি ও নাজমুল খানকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষনা করেন এইচ এম এরশাদ। এক মাসের মধ্যে পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করার নির্দেশও দেন তিনি।