বিএনপি-জোটে বিদ্রোহ, নির্ভার কামরান

আগামী ৩০ জুলাই সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটে চলছে নানা সমীকরণ। কিন্তু ৩০ জুলাইয়ের আগেই একধাপ এগিয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন কামরান। সিসিক নির্বাচনে কামরানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট প্রার্থীকেই ধরা যায়। কিন্তু দেশের অন্যতম প্রধান এই রাজনৈতিক জোটে একাধিক প্রার্থী থাকায় নির্বাচনের আগে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইতিমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়ন দাখিল করেছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। এ অবস্থায় নিজের ঘরে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে যাচ্ছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও সদ্য পদত্যাগী মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে দলীয় মনোনয়ন দিলেও প্রথম থেকেই এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন সেলিম।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) বিকেলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মেয়র পদে নিজের মনোনয়নপত্র জমাদানের মাধ্যমে আরিফের বিরুদ্ধে নিজের শক্ত অবস্থান জানান দেন তিনি। মনোনয়নপত্র জমাদানকালে তাঁর সাথে বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন।

দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমাদান প্রসঙ্গে বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘আরিফুল হক চৌধুরীকে দলীয় মনোনয়ন না দিতে আজ থেকে ৯ মাস আগে মহানগর বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরীত একটি পত্র বিএনপির চেয়ারপার্সনসহ সকল মহলে জমা দেওয়া হয়, এমনকি দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে যখন কেন্দ্র অপর ৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর স্বাক্ষাতকার গ্রহণ করে তখন সকলেই আমার নাম বলেছেন এবং আরিফুল হক চৌধুরীর বিরোধিতা করেছেন। এতো কিছু সত্তেও কেন্দ্র আরিফুল হক চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তারা আমাকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে অনুরোধ করেন। তৃণমূলের এই চাওয়াকে মূল্যায়ন করে আমি স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’

কেন্দ্র থেকে চাপ আসলে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সেলিম বলেন, ‘কেন্দ্র যে কোন সিদ্ধান্ত দিলেই যে আমাদের মেনে নিতে হবে তা না। কারণ নির্বাচন কেন্দ্র করবে না, নির্বাচন করবে স্থানীয় নেতাকর্মী। সুতরাং স্থানীয় নেতাকর্মীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতেই আমার এ সিদ্ধান্ত। আমি আশা করি সকল নেতা কর্মীরা আমাকে যে ভাবে সমর্থন দিয়েছেন তাঁর সঠিক প্রতিফলন আগামী ৩০ জুলাই পাওয়া যাবে।’

শুধু নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী নয় আরিফুল হককে মোকাবেলা করতে হতে পারে জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে। মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনিও। যদিও এখনো জোটগত নির্বাচন করার জন্য কেন্দ্রীয় কোনো নির্দেশনা আসেনি বলে জানান জুবায়ের। তবে তিনিও নির্বাচন করার ব্যাপারে অনড়।

মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর প্রতীক হিসেবে ‘ঘড়ি অথবা বাস’ কোনটা গ্রহণ করা যায় সেই ব্যাপারে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা কর্মীদের সাথে বৈঠকও করেন তিনি।

এদিকে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের পক্ষে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। বিরোধী জোটে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় কামরানের পথ অনেকটা সুগম হয়েছে বলে ভাবছেন অনেকেই। তফশীল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চাইলেও কেন্দ্র থেকে কামরানকে মনোনীত করায় এর বিরোধিতা করেন নি কেউই। এমনকি মনোনয়নপত্র জমাদানের সময় দলের সবাই দাঁড়িয়েছেন কামরানের পেছনেই।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই, ছিলোনা। আমরা শুরু থেকেই ঐক্যবদ্ধ ছিলাম। দল থেকে মনোনীত প্রার্থীর জন্যই কাজ করবো। তার বিজয় নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’