বিএনপি ঐক্যবদ্ধ, দেয়াল হয়ে আছেন জুবায়ের

প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিমের সমর্থন আদায় করে কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও একেবারে নির্ভার হতে পারছেন না বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। অনেক জল ঘোলা করার পর আরিফকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনী মাঠ থেকে সেলিম সরে গেলেও আরিফের সামনে এখনো দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক দল জামায়াতে ইসলামী নেতা এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।  সেলিম সরে যাওয়ার পর জুবায়েরকে নিয়ে বিএনপিতে কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়ে নিজের কঠোর অবস্থান আবারো পরিস্কার করলেন জামায়াতের এই নেতা।

তবে, রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই; এমন ধারণা থেকে জুবায়েরকে সরাতে শেষ চেষ্টাই করে যাচ্ছেন বিএনপি নেতারা। তাদের বিশ্বাস, কট্টর বিরোধী সেলিমকে যখন ঘরে আনতে পেরেছেন, তাহলে জুবায়েরকেও পারবেন আরিফ।

শুরু থেকেই দলের ভেতরে কোণঠাসা ছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট বিএনপির জেলা এবং মহানগরের চার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন মেয়র পদে মনোনয়নের দৌড়ে। সবাইকে টপকে কেন্দ্রীয় বিএনপি থেকে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে সক্ষম হন আরিফ। বাকিরা কেন্দ্রের নির্দেশে আরিফকে সমর্থন দিয়ে নিজেরা সরে আসেন নির্বাচন থেকে, মন দেন আরিফের প্রচারণায়। কিন্তু বাধ সাধেন সেলিম। সেলিমের আরিফ বিরোধিতা এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলো যে, মহানগন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ ছেড়ে দিয়ে হলেও নির্বাচন করতে অনড় ছিলেন তিনি। বহিস্কার হলেন দল থেকে, বিচ্ছিন্ন হলেন নেতাকর্মী থেকে। তবুও ইষ্পাত কঠিন পণ; নির্বাচন করবেনই।

এদিকে দলের ভেতরে বাকিদের সামলে নিলেও সেলিমের কারণে নির্ভার ছিলেন না আরিফুল হক চৌধুরী। অন্যদিকে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার মুক্তাদিরের উপর প্রচণ্ড ক্ষেপে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শামছুজ্জামান। সেই ক্ষোভ এসেও পড়ে আরিফের নির্বাচনে। এমনকি কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে আরিফের প্রথম সংবাদ সম্মেলন পণ্ড করে দেন জামানের অনুসারীরা। আরিফের প্রচারণা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলো ছাত্রদলের একটি বড় অংশও। কিন্তু আরিফ তো আরিফই। ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে রাজনীতি করে আসা আরিফুল হক ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করলেন, চালালেন বিভিন্ন কৌশল। কেন্দ্র থেকে চাপ বাড়ালেন বিদ্রোহীদের উপর। আরিফের ধৈর্য্য বৃথা যায় নি, সফল হলেন আরিফ।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বদরুজ্জামান সেলিম। আরিফকেই দিলেন সমর্থন। একই দিনে সিলেটের সাবেক ছাত্রনেতাদের অনুরোধ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপে জামানও মান ভাঙলেন, নামলেন আরিফের পক্ষে প্রচারণায়। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্দেশনায় সিলেটের বিদ্রোহীরাও আরিফের প্রচারণায় যোগ দিলেন। সকল কলহ ভুলে একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও আদায় করে নিয়েছেন বিএনপির মেয়রপ্রার্থী আরিফ।

কিন্তু এখনো নির্ভার হতে পারেন নি। কারণ, মাঠে এখনো ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীকদল জামায়েতের সিলেট মহানগরীর আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের রয়েছেন। টেবিলঘড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদিনই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনি ও তাঁর দল। এখন পর্যন্ত তাদের ভোটব্যাংক নিয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা থাকায় একেবারে হেলায় ফেলা যাচ্ছে না। স্থানীয় বিএনপি ও কেন্দ্র দুদিক থেকেই চেষ্টা করে অনেকটা ব্যর্থ হয়েছেন। জামায়েত তাদের নির্বাচন করার ব্যাপারে কোনো ছাড় দিতে রাজিতো নয়ই, উল্টো পারলে বিএনপির প্রার্থী বসিয়ে দিতে চান।

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই এমন কথা প্রচলিত থাকলেও এসব সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন জামায়েতের সিলেট মহনগরীর আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি সিলেট ভয়েসকে বলেন, আমি আমার দল থেকে সমর্থন পেয়েই নির্বাচন করছি, এটা দলীয় সিদ্ধান্ত। এখান থেকে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। এই নির্বাচন জোটের সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, শেষ পর্যন্ত আশা ছাড়ছে না বিএনপি। সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, রাজনীতিতে অনেক কিছুই হতে পারে। আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে জুবায়ের সাহেবের সাথে আলাপ আলোচনা করছি, স্থানীয়ভাবেও যোগাযোগ করছি। আশা করছি এটাও সমাধান হবে। নির্বাচনের দিনেও তো অনেকে সরে দাঁড়ায়।

তবে নির্বাচনের আর মাত্র দশদিন বাকি থাকলেও এখনই জুবায়েরের ব্যাপারে হাল না ছেড়ে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাওয়ার পক্ষেই মতামত বিএনপির নীতিনির্ধারকদের।