বিউটি হত্যার দায় স্বীকার করে পিতা ও চাচার জবানবন্দী

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আলোচিত কিশোরী বিউটি হত্যা মামলার বাদী ও বিউটির বাবা ছায়েদ আলী নিজ মেয়ে হত্যায় জড়িত ছিল বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিয়েছে।

শনিবার (০৭ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত হবিগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে মামলার বাদী ও নিহত বিউটির বাবা ছায়েদ আলী ১৬৪ ধারা জবানবন্দী দেয়। তবে তিনি জবানবন্দীতে কি বলেছেন, তদন্তের স্বার্থে পুলিশ সে সম্পর্কে কিছুই জানায়নি। পরে প্রতিবেশী আছমা আক্তারের বক্তব্য রেকর্ড করেন আদালত।

এর আগে শায়েস্তাগঞ্জের বহুল আলোচিত কিশোরী বিউটি আক্তার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন আটক আসামী ময়না মিয়া। শুক্রবার (০৬ এপ্রিল) বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ময়না মিয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়।

প্রায় ৩ ঘন্টার এই জবানবন্দীতে বিউটি হত্যার স্বীকারোক্তি দেয় সে। এই হত্যাকাণ্ডে আরও কারা জড়িত ছিল, কী দিয়ে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, কেন করেছে সব তথ্যই তিনি আদালতে প্রকাশ করেছেন।

এদিকে বিউটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে একই আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে এ ঘটনায় গ্রেফতার বাবুল মিয়া। তবে হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা নেই বলে আদালতকে জানায় সে। বাবুলের মা ইউপি সদস্য কলম চান বিবিকে দুইদিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার রাতে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি সদর উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের দিনমজুর কন্যা বিউটি আক্তারকে বাড়ি থেকে অপহরন করে নিয়ে যায় বাবুল মিয়াসহ তার লোকজন। এরপর বিভিন্ন স্থানে রেখে ধর্ষণ করে লম্পট বাবুল। ১৮ দিন পর ৯ ফেব্রুয়ারি বাবুল মিয়া কৌশলে বিউটিকে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে মামলা করেন বিউটির বাবা ছায়েদ আলী। ১৬ মার্চ রাতে বিউটি আক্তার তার নানা বাড়ি লাখাই উপজেলার গুনিপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয়। পরদিন দুপুরে ব্রাহ্মণডোরা হাওর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রতিবাদের ঝড় উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমেও। পুলিশও হত্যার মোটিভ উদঘাটনে মরিয়া হয়ে ওঠে। প্রথম দফায় তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ারও সুপারিশ করা হয়। বদল করা হয় তদন্তকারী কর্মকর্তা। দ্বিতীয় দফায় মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মানিকুল ইসলাম।