বাসস্থান হারানোর ঝুঁকিতে বিশ্বের ১৪ কোটি মানুষ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর ১৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ জলবায়ু অভিবাসনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গত ১৯ মার্চ বিশ্বব্যাংক তাদের এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা, বায়ুচাপ ইত্যদি সূচকে পরিবর্তন হয় এবং পরবর্তীতে এর প্রভাব পড়ে পৃথিবী পৃষ্ঠে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে প্রতিনিয়ত তা জলবায়ুর ওপর প্রভাব ফেলছে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খরা, বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙন ইত্যাদি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনা বাড়ছে। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে মানবজাতি।

বিশ্বব্যাংকের ঐ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাব সাহারান আফ্রিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকাকে অতি ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের নাম। বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া এবং মেক্সিকোর ওপর করা কয়েকটি কেস স্টাডিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এই প্রতিবেদনে। গবেষকরা বলছেন, গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমণ রোধ করতে না পারলে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় যথেষ্ট পরিমাণ প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হলে ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু অভিবাসীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি অনেক কমে যেতে পারে। এই গবেষণা প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে, অন্য যে কোনো কারণের তুলনায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের হার অনেক বেড়ে যাবে। তাদের মতে, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ এবং ইথিওপিয়ার তুলনায় অনেক বেশি প্রস্তুত মেক্সিকো। এর আগে ২০১৩ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে আগামী তিন দশকে বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি মানুষ স্থায়ী বা সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত হবে। অন্য এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এরই মধ্যে ৬০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। শুধু নদী ভাঙনেই বছরে এক লাখ মানুষ ভিটেছাড়া হয়।

বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ৫৫ ভাগেরই বসবাস সাব সাহারান আফ্রিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকায়। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা অভিবাসীরা অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের পাশাপাশি দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতেও বাধ্য হয়। বিশেষ করে আশেপাশের যেসব দেশে তুলনামূলকভাবে এই ধরনের সমস্যা কম সেখানে শরণার্থীতে পরিণত হন।

তবে গবেষক দল কিছু আশার কথাও শুনিয়েছেন। তাদের বক্তব্য এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি। গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন বন্ধ করতে পারলে এবং সেই সাথে ‘উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কার্যকর’ করতে পারলে বন্যা ঝুঁকিতে থাকা চার কোটি মানুষের জলবায়ু অভিবাসী হওয়ার আশঙ্কা ৮০ ভাগ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বিশ্বব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি তীব্র হওয়ার আগেই এর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। গ্রামের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারলে এটি দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনতে পারে।

সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক