বজ্রপাতে সিলেটের তিন জেলায় নিহত ৫

হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৭ মে) সকাল ও দুপুরে পৃথক বজ্রপাতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের দৌলতপুর ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের অধীর বৈষ্ণব (২৭) ও বসু বৈষ্ণব (৩২), মৌলভীবাজার সদর ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার মফিজ মিয়া (৩০) এবং আবু সামাদ (১৫) এবং সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নব কুমার দাস (৬৫)।

বানিয়াচং উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান জানান, সকালে বজ্রসহ বৃষ্টি হচ্ছিল। ওই সময় বৃন্দা চিত্তা হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হয় তিন শ্রমিক, যাদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আহত অবস্থায় দু’জনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরেকজনের মৃত্যু হয়। আহত আরেকজন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই কৃষক।

বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা করে অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে।

একইদিন সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুরে বাড়ির পাশে ধানক্ষেতে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই আবু সামাদের মৃত্যু হয়। আবু সামাদ একই এলাকার ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে।

অপরদিকে, দুপুরে শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে বৃষ্টির সময় নৌকার মধ্যে আশ্রয় নেন দুইজন কৃষক ও দুইজন মৎস্যজীবী। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই মফিজ মিয়ার মৃত্যু হয়। মফিজ মিয়া উপজেলার বরুনা এলাকার ইসলাম মিয়ার ছেলে।

একই ঘটনায় রশীদ মিয়া (৩৬) ও মো. রফিক মিয়া (৬০) আহত হন। আহতরা মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. অশোক ঘোষ।

বজ্রপাতে সুনামগঞ্জেও মৃত্যু হয়েছে এক কৃষকের। সোমবার (৭ মে) দুপুরের দিকে জেলার শাল্লা উপজেলার ছায়ার হাওরে ধান মাড়াই করার সময় বজ্রপাতে নব কুমার দাস (৬৫) নামের ওই কৃষক মারা যান। নবকুমার দাস উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্ধা।

নিহতের স্বজনরা জানান, ছায়ার হাওরে বোরো ধান মাড়াই করার সময় বজ্রপাতে আহত হন নব কুমার দাস। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক নবকুমারকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাল্লা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।