ফয়জুর ছাড়া বাকি ৬ জন আটক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য

ড. জাফর ইকবালের উপর হামলা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলাকারী ফয়জুর হাসান সহ এ পর্যন্ত আরো ৬ জনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদের মধ্যে রয়েছেন- হামলাকারির বাবা মাদরাসা শিক্ষক আতিকুর রহমান, মা মিনারা, বেগম চাচা আব্দুল কাহ্হার ও মামা ফজলু মিয়া। তবে একমাত্র ফয়জুর হাসান ছাড়া আর কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার দেখায়নি পুলিশ।

সোমবার (০৫ মার্চ) সন্ধ্যায় শুধু ফয়জুরকে গ্রেফতার দেখানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার মুহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব।

শনিবার বিকালে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল নিজ ক্যাম্পাসে হামলার শিকার হলে এ ঘটনায় ওই দিনই পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় একটি মামলা করেন। রোববার (০৪ মার্চ) সকালে পুলিশ বাদী হয়ে একজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে আরও একটি মামলা করে।

ঘটনার প্রেক্ষিতে শনিবার রাতে এবং রোববার ভোরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হামলাকারির চাচা আব্দুল কাহ্হার এবং মামা ফজলু মিয়াকে আটক করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও তাদের নাম আসে। এরপর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরো ২ জনকে আটক করে। রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৯ বাকি দুজনকে আটকের কথা শিকার করলেও তাঁদের নাম জানা যায়নি।

এদিকে রবিবার রাতে সিলেট নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকা থেকে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ফয়জুর হাসানের মা বাবাকে আটক করে পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি)র একটি বিশ্বস্থ সুত্র জানায় রাত ১১ টার দিকে প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান জানতে পেরে অভিযান চালিয়ে পুলিশের একটি বিশেষ দল তাদেরকে আটক করে।

তারা বর্তমানে কোথায় আছে তা জানা যায়নি।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জালালাবাদ থানার সেকেন্ড অফিসার জানান- ‘ফয়জুর হাসানের বাবা মা তাদের হেফাজতে নেই।’

অপরদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফয়জুরের বাবা মা আটকের এ বিষয়টি উঠে আসলেও এ নিয়ে এসএমপির দায়িত্বশীল কেউই কথা বলতে রাজি হননি। প্রকাশিত সংবাদে এসএমপির মিডিয়ার বরাত দেওয়া থাকলেও অতিরিক্ত উপ কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব বলেন- ‘আমি এ নিয়ে কারো সাথে কথাই বলিনি। আমার সাথে কথা না বলেই অনেকেই নিউজ করেছে।’

মামলায় গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন- একমাত্র হামলাকারী ফয়জুল হাসান ছাড়া আর কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার দেখানো হয়নি। আটক বাকিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্তে যদি এদের কাউকে জড়িত পাওয়া যায় তাহলে গ্রেফতার দেখানো হবে।

এ ব্যাপারে র‍্যাব-৯ এর পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মনিরুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।

এর আগে শনিবার বিকেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই দুর্বৃত্তের হামলা শিকার হন অধ্যাপক জাফর ইকবাল। ঘটনার পরপরই হামলাকারী ফয়জুর হাসান ওরফে ফয়জুলকে আটক করে পুলিশ। ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা মারধরের পর তাকে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে রবিবার র‍্যাব-৯ ফয়জুরকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। বর্তমানে সে সিলেট পুলিশ হেফাজতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।