ফেঞ্চুগঞ্জে ডাক্তারের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

অভিযুক্ত ডাক্তার কামরুজ্জামান

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডা. কামরুজ্জামানের অবহেলায় শাসকষ্ট রোগীর মৃত্যু অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাতে ডাক্তার কামরুজ্জামানের অমানবিক আচরণে উপজেলার রাজনপুর গ্রামের সুজাত আলী (৬৫) নামে এক শাসকষ্ট রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে ওই অভিযুক্ত ডাক্তারের বিরুদ্ধে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

মৃত সুজাত আলী ছেলে ফুয়াদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগছেন। গত শুক্রবার রাত ১২ টায় হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। অবস্থা খারাপ দেখলে উনাকে দ্রুত ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। ফেঞ্চুগঞ্জ হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার কামরুজ্জামান দ্রুত ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। এসময় আমার বাবার শাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় ডাক্তার কামরুজ্জামানকে বার বার অনুরোধ করি বাবার (সুজাত আলী) মুখে অক্সিজেন লাগানো জন্য। কিন্তু ডাক্তার কিছুতেই অক্সিজেন দেননি৷ একপর্যায়ে জোরপূর্বক অক্সিজেনটা বাবার মুখে দেই। বাবার মুখে অক্সিজেন লাগানোর পর ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে থাকেন। পরে ডাক্তার জোরপূর্বক উনার মুখ থেকে অক্সিজেন খুলে নেন। আমাদের সঙ্গে থাকা সিএনজির লাইসেন্স না থাকায় ডাক্তারকে বললাম, সিলেট মেডিকেলে যাওয়ার জন্য হাসপাতালের এম্বুলেন্সটা দিতে। উনি বললেন, এম্বুলেন্স এখন নেই৷ পরে দেখলাম, এ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালেই রাখা ছিল। অক্সিজেন না থাকায় ফেঞ্চুগঞ্জের ইলাশপুরে যাওয়ার পথেই বাবা মারা যান।

এদিকে, আজ রবিবার (২২ জুলাই) দুপুরে অভিযুক্ত কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সুজাত আলীর পরিবার মৌখিকভাবে ফেঞ্চুগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা শফিকুল আলমকে অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত ডাক্তার কামরুজ্জামান বলেন, রোগীর অবস্থা খারাপ থাকায় সিলেটে নেওয়ার পরামর্শ দেই। অক্সিজেন হাসপাতালে বাইরে দেয়ার নিয়ম নেই তাই দেইনি। আর এম্বুলেন্স হাসপাতালে নেই বলিনি। এম্বুলেন্স চালকের মোবাইল নম্বর আমি তাদের দিয়েছি।

এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার শফিকুল আলম বলেন, সিলেট সিভিল সার্জনের সাথে আলাপ করে ওই অভিযুক্ত ডাক্তার কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।