ফিফার পুরস্কার বিতরণীতে আমন্ত্রণ পেলেন সেই ১২ কিশোর

গুহায় আটকে পড়া থেকে উদ্ধার হওয়ার পরও তাদের উপর থেকে নজর সরেনি বিশ্বের। আর এই সব কিশোরদের কল্যাণে থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চিয়াং রাইয়ের ‘ওয়াইল্ড বোরস ফুটবল দল’টি এখন বিশ্বজুড়ে আলোচিত একটি নাম, যে দলের ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচ সম্প্রতি আটকে পড়েছিল একটি গুহায়।

গুহা থেকে উদ্ধার পাওয়া কিশোর ফুটবলারদের এই দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ফিফা। তবে গুহা থেকে উদ্ধার পাওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় কিশোর ফুটবলাররা সে আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পারেনি।

এবার এই ফুটবল দলটিকে নিজেদের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য অামন্ত্রণ জানিয়েছে ফিফা।

ব্যাংকক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরে লন্ডনে অনুষ্ঠেয় ফিফার বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ‘ওয়াইল্ড বোরস ফুটবল দল’কে।

থাই গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া ১২ কিশোর

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো শুক্রবার বলেন, থাইল্যান্ডের ওই কিশোর ফুটবলারদের লন্ডনে অনুষ্ঠেয় ফিফার বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অুনষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যেখানে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের পুরস্কৃত করা হবে।

তিনি জানান, কিশোর ফুটবলারদের এই দলটিকে আরেকটি ফুটবল ইভেন্টে সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও ভাবছে ফিফা। আর ওই ইভেন্টটি থাইল্যান্ডেই হতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুন ১২ সদস্যের একটি কিশোর ফুটবল দল এবং তাদের ২৫ বছর বয়সী কোচ থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চিয়াং রাইয়ের ‘থাম লুয়াং’ গুহায় প্রবেশ করে। প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে গুহার ভেতর পানি ঢুকে পড়লে দলটি সেখানে আটকা পড়ে। ১০ দিন পর ডুবুরিরা গুহায় তাদের সন্ধান পায়।

গত ৬ জুলাই গুহায় আটকে পড়া কিশোরদের কাছে অক্সিজেন সরবরাহ করে ফেরার পথে অক্সিজেন ঘাটতির কারণে এক ডুবুরির মৃত্যু হয়, যিনি থাইল্যান্ড নেভির একজন সাবেক সদস্য।

এরপর গত রোববার ১২ কিশোর ও তাদের কোচকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে থাই কর্তৃপক্ষ। তবে প্রথম দফায় অভিযান চালিয়ে গুহা থেকে চার কিশোরকে উদ্ধারের পর এয়ার ট্যাঙ্ক পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় রাতে অভিযান স্থগিত রাখা হয়। পরদিন সোমবার পুনরায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। সেদিন উদ্ধার করা হয় আরও চার কিশোরকে।

এরপর মঙ্গলবার তৃতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে বাকি চার কিশোর ও তাদের কোচকে গুহা থেকে বের করে আনা হয়। এর মধ্য দিয়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযানের সফল সমাপ্তি ঘটে। গুহা থেকে উদ্ধারের পর সবাইকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।