প্রশংসায় ভাসলো নাটক ‘লিগ্যাসি কোড ১৯.০৫.১৯৬১’

নাটক 'লিগ্যাসি কোড ১৯.০৫.১৯৬১' এর একটি দৃশ্য

নাটকের নাম ঘোষণার পূর্বে অডিটোরিয়ামের বাইরে দর্শকদের দীর্ঘ লাইন। শহরের বাইরে থেকেও এসেছেন অনেকে। ঘড়ীর কাটায় চোখ রেখে হলে প্রবেশের পালা শেষ। এবার তবে নাটক শুরুর পালা। নাম ঘোষণার সাথে সাথে মঞ্চে আসেন সাদা শার্ট আর সাদা প্যান্ট পরা একজন লোক। কাঁধে ঝুলানো একটি ব্যাগ। গড়গড় করে বলা শুরু করলেন এইতো কোর্ট, কতো মানুষের ভিড়! হ্যাঁ লোকটিতো আমাকে তা’ই বলেছিলো।

মঞ্চে কোর্টের কোন আকৃতি না থাকলেও লোকটার ভাব ভঙ্গী দেখে দর্শকরা বিশ্বাস করতে বাধ্য হন এটাই ‘বিচারিক কোর্ট’, আর তিনি হলেন ‘ ১৯. ০৫.১৯৬১’ এ ভারতের শিলচরে বাংলা ভাষার দাবিতে শহীদ হওয়া কমলা ভট্টাচার্যসহ নাম না জানা শত শহীদের উত্তরাধিকারী অর্জুণ নমঃশূদ্র।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেটের কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে এমনই এক দৃশ্যের অবতারণা করে ভারতের ‘গণ-সুর সাংস্কৃতিক সংস্থা, শিলচর’ এর নাটক ‘লিগ্যাসি কোড ১৯.০৫.১৯৬১’।

কথাকলি সিলেটের আয়োজনে সিলেটের কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে ৮ দিনব্যাপী ‘বরাক-সুরমা নাট্যোৎসব’র ৬ষ্ঠ দিন মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) ‘লিগ্যাসি কোড ১৯.০৫.১৯৬১’ তে তুলে ধরা হয় ভারত বর্ষে বাংলা ভাষার আন্দোলনের চিত্র। আগাগোড়া সংলাপের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় ভারতের বাঙালীদের সাথে বাংলাদেশের বাঙালীদের সম্পর্ক। দেখানো হয় দুই বাংলার ভাষা আন্দোলনের চিত্র ভিন্ন হলেও একই সুতোয় গাঁথা। দেখানো হয় জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ এক এবং অভিন্ন।

নাটকটি রচনা করেছেন অরিজিৎ আদিত্য এবং নির্দেশনা দিয়েছেন সুব্রত রায়।

নাটকটিতে অভিনয় করেছেন সুব্রত রায়, বিভাস রায় ও রুমি রায়। শব্দ পরিকল্পনা করেছেন সুব্রত রায়, শব্দ প্রক্ষেপণে সেবায়ন রায় চৌধুরী, আলোক পরিকল্পনা করেছেন দেবজ্যোতি রায়, মঞ্চ পরিকল্পনা করেছেন রাজকুমার রায়।

নাটক শেষে নাটকের একান্ত আলাপচারীতায় নাট্যকার অরিজিৎ আদিত্য সিলেট ভয়েসকে জানান, নাটকের গল্পের প্রয়োজনে নাটকীয়তার আশ্রয় নেওয়া হলেও ‘লিগ্যাসি কোড ১৯.০৫১৯৬১’ নাটকটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত।

নাট্যকার অরিজিৎ আদিত্য বলেন, ভারতের শিলচর অঞ্চলের এক নদীর পাড়ে বাড়ি ছিলো অর্জুণ সুত্রধর নামের একজন মানুষের। যার কাছে ‘ডি-ভোটার বা বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে লিগ্যাসি কোড থেকে একটি নোটিশ আসে। এর প্রেক্ষিতে ওই লোকের দায়িত্ব হলো সে ভারতের নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করা। কিন্তু লোকটি গরিব এবং সহজ সরল হওয়ায় তার কাছে কোন কাগজ পত্র ছিলো না। তাই কোর্টে দৌড়াতে দৌড়াতে নিঃস্ব হয়ে যায় লোকটি। পরে সে আত্মহত্যা করে। এ লোকটির জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে ভাষা আন্দোলনের মধ্যদিয়েই গল্পটা টানা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার এই গল্পে আমি দেখাতে চেয়েছি ‘জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ এক এবং অভিন্ন’।

নাটকে অর্জুন নমঃশূদ্রর চরিত্রটি মঞ্চে রেখে বাকি সবগুলো চরিত্রই কাল্পনিকভাবে আবিষ্কার করা হয়েছে।

নাটক শেষে বিয়ানিবাজার থেকে নাটক দেখতে আসা নবারুণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী শাবুল আহমদ সিলেট ভয়েসকে বলেন, নাটকে উপস্থাপনার কৌশল, সংলাপের গভীরতা, সাবলীল অভিনয় সব কিছুই ছিলো উপভোগ্য।

কথাকলির আয়োজনে চলমান ৮দিনব্যাপী ‘বরাক-সুরমা নাট্যোৎসব-১৮’ এর ৭ম দিন (১৪ মার্চ) বুধবার সন্ধ্যা ৭ টায় মঞ্চায়িত হবে নাটক ‘শেকড় সন্ধ্যানে’। নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন চিত্রভানু ভৌমিক।