‘প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ অপরাধ নয়, চুমু খাওয়ায় দোষ!’

মেট্রো রেলে ‘ঘনিষ্ঠ’ ভাবে দাঁড়ানোর অপরাধে দমদম স্টেশনে প্রেমিক যুগলকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে এখন উত্তাল কলকাতা। অনেকেই ক্ষোভ জানিয়ে প্রশ্ন রেখেছেন, কে ঠিক করে দিল শ্লীল আর অশ্লীল ভেদাভেদ? কোন নিক্তিতে মাপা হল প্রকাশ্যে কী করা উচিত আর কোনটা নয়?

এই প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন কলকাতার সংস্কৃতি অঙ্গনের সেলিব্রিটিরাও। ‘প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া এই দেশে অপরাধ’ গানের স্রষ্টা নচিকেতাও জানিয়েছেন ওই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ। কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজারে প্রকাশিত তাঁর লেখাটি নিচে তুলে দেয়া হলো-

‘এই শহরে তালিবানি শাসন চলছে নাকি! পঞ্চায়েত ঠিক করে দেবে, কে কার হাত ধরবে?

আসলে এই বুড়োগুলো যৌন ঈর্ষায় ভোগে। নিজেরা করতে পারছে না। তাই যে করতে পারছে তাকে ধরে মারো। এরা নিজেদের ছেলেমেয়েকে আমেরিকাতে পাঠায়। সেখানে নিজেদের ছেলেমেয়েরা প্রকাশ্যে চুমু খেলে দোষ হয় না। এখানে সেটা অন্য কেউ করলেই যত দোষ। যখন লালকেল্লা বিক্রি হয়ে যায়, হেরিটেজ নিলাম হয়ে যায়, তখন এই বীরপুঙ্গবরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকে।

আমি সে কারণেই অনেক দিন আগেই গান লিখেছিলাম, প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া এই দেশে অপরাধ, ঘুষ খাওয়া কখনওই নয়। এই যে লোকগুলো এই জঘন্য কাজটা করল, তারা নিজেদের কর্মজীবনে কোনও অপরাধ করেনি? তারা কখনও ঘুষ খায়নি? কোনও অন্যায় সুবিধা নেয়নি? পুলিশের উচিত, এই লোকগুলোকে খুঁজে বের করে জেলে ঢোকানো। এদের শাস্তি হওয়া দরকার।

শ্লীল-অশ্লীল পুরো বিষয়টাই খুব আপেক্ষিক। আলিঙ্গন করা মানুষের মানুষকে ভালবাসার একটা অনুভূতি। মানুষ মানুষকে ভালবাসবে না? এটা কি সভ্যতার চিত্র? আসলে আইনকানুনের দায়িত্ব আমরা গাধাদের হাতে দিয়ে দিয়েছি।

আমাদের শহরে প্রেম করার কোনও জায়গা নেই। ক্রিকেটের মাঠের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়। অথচ ছেলেমেয়েরা প্রেম করার জন্য জায়গা পায় না। গোটা শহরটা কংক্রিটে ভরে গেছে। প্রেম করার, ভালবাসার প্র্যাকটিস করতে দেব না, খালি হিংসার প্র্যাকটিস। এই শহরে প্রেমিক-প্রেমিকার নিরাপত্তা নেই। অথচ বাকি সব এখানে প্রকাশ্যে হয়। ইউ ক্যান্ট কিস ইন পাবলিক প্লেস, বাট ইউ ক্যান পিস ইন পাবলিক!’