পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় ৪ জন নিহত

আসামের পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। গত রবিবার শুরু হওয়া এই দাঙ্গায় এখন পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যটির কর্মকর্তারা।

পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার শুরু দেবতা রামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যে রাম নবমীর মিছিল বের হয়েছিল তাকে কেন্দ্র করে। এই মিছিল থেকেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিমবঙ্গের রানীগঞ্জ ও পুরুলিয়া এলাকায়। সেখানে বেশ কিছু বাড়িঘর ও একটি মসজিদ সংলগ্ন দোকানপাটে হামলা চালানো হয়েছে।

হামলার পর ওই এলাকায় গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট সেবা। এ ঘটনায় ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাজ্য কর্তৃপক্ষ। রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস এই সহিংসতার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতায় থাকা দল বিজেপির কর্মীদের দায়ী করেছে। সূত্র আল জাজিরা।

রাজ্যের কর্মকর্তাদের বরাতে আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, রাম নবমীর র‌্যালিতে তলোয়ার ও লাঠি ব্যবহারের পর রবিবার পুরুলিয়ায় একজন নিহত হয়। পর সোমবার রাজধানী কলকাতার নিকটবর্তী শহর কানকিনারায় একজন নিহত হয়। মঙ্গলবার রানীগঞ্জে নিহত হয় অপর একজন। ওইদিনই আসানসোল থেকে ১৬ বছরের এক শিশু নিখোঁজের পরদিন তার মরদেহ পাওয়া যায়।

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতিবিদ তাপস বন্দোপাধ্যায় আল জাজিরাকে শুক্রবার বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশ। সহিংসতায় জড়িতদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমরা বলতে পারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের সময়মত শাস্তি দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত সহিংসতা জড়িত অভিযোগে একশো জনকে আটক করা হয়েছে বলেও তথ্য দেন তিনি।

আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত আসানসোল ও রানীগঞ্জে গণজমায়েত ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।