পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপে সরগরম সিলেট ছাত্রলীগ

আগামী ১২ মে আসছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব। এরপরই আসছে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি; এমন খবর এখন নেতাকর্মীদের মুখে মুখে। এ অবস্থায় সিলেটে ছাত্রলীগের জেলা ও মহানগর কমিটি নিয়ে চলছে দৌড়ঝাঁপ। চলছে কেন্দ্রের সাথে লবিং। জেলা কমিটি হোক আর মহানগর কমিটি হোক যে কোন একটি নিজেদের বলয়ে ধরে রাখতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারাও যেন মরিয়া হয়ে ওঠেছেন। এদিকে ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশীরাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে কেন্দ্রের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

সর্বশেষ টিলাগড়ের দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুন হন ছাত্রলীগ কর্মী ওমর ফারুক মিয়াদ। এ খুনের ঘটনার পরপরই কেন্দ্র থেকে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা আসে। একই সাথে নতুন কমিটিতে পদ প্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কেন্দ্রের এমন নির্দেশনার পর পরই পদপ্রত্যাশী ছাত্রলীগ কর্মীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। নিজ নিজ বলয়ে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের পদ ধরে রাখতে সিনিয়র নেতারাও যোগ্য কর্মীর নাম নির্বাচনে সরব।

অপরদিকে মহানগর কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন কমিটি আসার আবাসও পাচ্ছেন নেতারা। তাই পদ প্রত্যাশীরাও আছেন দ্বিমুখী আশায়। জেলা হোক আর মহানগর হোক কোন এক কমিটিতে নিজেকে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই দেখা চাই!

টিলাগড় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের এক গ্রুপ সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট রঞ্জিত সরকার বলয় থেকে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য নাজমুল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক স্কুল ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক হুসাইন আহমদ, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হোসাইন আহমদ চৌধুরী।

টিলাগড় ছাত্রলীগের অপর গ্রুপ মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ বলয় থেকে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন- সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি অনিরুদ্ধ মজুমদার পলাশ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এম ফারহান সাদিক।

অন্যদিকে তেলীহাওর গ্রুপ থেকেও রয়েছেন একাধিক প্রার্থী। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত হওয়া কমিটির সভাপতি তেলীহাওর গ্রুপের থাকায় নতুন কমিটিতে পুনরায় সভাপতি পদ ধরে রাখার দৃঢ় চেষ্টাও করে যাচ্ছেন এ গ্রুপের সিনিয়র নেতারা। তেলীহাওর গ্রুপের এক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এ গ্রুপ থেকে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিগত কমিটিতে থাকা একাধিক ছাত্রলীগ নেতা। তবে এদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন পারভেজ, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক জাওয়াদ খান, শুক্কুর আহমদ জনি।

এদিকে মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগকে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে সেই কাশ্মীর গ্রুপ থেকেও রয়েছেন ৩ জন প্রার্থী। এ গ্রুপ থেকে তিনজনই সমান তালে আলোচনায় রয়েছেন। কাশ্মীর গ্রুপ থেকে আলোচনায় রয়েছেন সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক সৈকত চন্দ্র রিমী, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা সাদিক আহমদ, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা শাহ মুস্তাফিজুর রহমান কামরুলের নাম।

দর্শন দেউড়ি গ্রুপ থেকে আলোচনায় রয়েছেন মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক আপ্যায়ন সম্পাদক নজির হোসেন লাহিন, ছাত্রলীগ নেতা কিশোর জাহান সৌরভ।

অন্যদিকে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ গ্রুপ থেকে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য শাওন ও তিতাস।

সকল গ্রুপই এক সাথে জেলা ও মহানগর কমিটি নিয়ে মরিয়া হয়ে ওঠেছেন। জেলা ছাত্রলীগ সকলেরই প্রথম লক্ষ্য হলেও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটির প্রতিও লোভ সামলাতে নারাজ সকলে। তবে আর যাই হোক ছাত্রলীগের নেতৃত্বে এমন কেউ আসুক যে পরিচ্ছন্ন ছাত্ররাজনীতির অধিকারী এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সাবেক নেতারা।

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ বলেন, অচিরেই সিলেট জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা হবে। এ লক্ষ্যে পদ প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন- ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি যাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে এজন্য কোন অছাত্রকে যাতে কমিটিতে স্থান না দেওয়া হয় সে বিষয়ে আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করছি। একই সাথে কোন খুন, চুরি, ছিনতাইর আসামি যাতে কমিটিতে না আসতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে অনুরোধ করেছি। আশা করি পরিচ্ছন্ন একটি কমিটি আসবে সিলেটে। ‘

এদিকে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি ২০১৫ সালের জুলাই মাসে গঠনের পর দুই বছর মেয়াদী কমিটির মেয়াদ চলে গেলেও এখনো পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ব্যর্থ মহানগর ছাত্রলীগ। এ অবস্থায় নতুন কমিটির আগমনী গুঞ্জন শুনা গেলেও মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তুষার নতুন কমিটি আসার বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন। বরং তিনি পুর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার সেই পুরনো বার্তাই শোনাচ্ছেন।

আব্দুল আলীম তুষার বলেন, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে কমিটি গঠন করা হলেও যেহেতু এখনো পুর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি সেহেতু নতুন কমিটি আসার কথা না। আর এরকম কোন কিছু আমার জানা নেই। বরং বিভিন্ন জটিলতার কারণে এতোদিন মহানগর ছাত্রলীগের পুর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে না পারলেও এখন এ পুর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

কিসের ভিত্তিতে পুর্ণাঙ্গ কমিটির পদ বন্টন করা হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে আব্দুল আলীম তুষার বলেন, যারা দীর্ঘ দিন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে আছে এমনকি যাদের উপর কোন খুনের বা চুরি ছিনতাই মামলা নেই এবং যাদের ছাত্রত্ব আছে তাদেরকেই কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে।

তবে ছাত্রলীগের জেলা কমিটিতে হোক আর মহানগর কমিটিতেই হোক যে কোন কমিটির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদ নিজের বলয়ে ধরে রাখতে যেমন সক্রিয় চেষ্টা করে যাচ্ছেন দলের সিনিয়র নেতারা তেমনই পদ প্রত্যাশীরাও লবিং এ ব্যস্ত সময় পার করছেন।