নৌকার বিজয়ে একাট্টা সিলেট আওয়ামী লীগ

সিলেটে নৌকার বিজয়ে মরীয়া হয়ে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। দলীয় প্রতীকের বিজয়ের লক্ষ্যে সকলেই একাট্টা হয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন নির্ঘুম প্রচারণা। যে কোন মূল্যে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় নেতারাও প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। সিটি নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং ২০ দলীয় জোটের শরীক দল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পাশাপাশি বিএনপিতে মতবিরোধ থাকলেও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদের পক্ষে সকলেই একাট্টা।

শুরুতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ছাড়াও মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলোয়ার, আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক জাকির হোসেন এবং শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদসহ মোট ৫ জন। কিন্তু কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে কামরানকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার পর আর কেউ বিদ্রোহী না হয়ে বরং নৌকার বিজয়ে একজোট হয়েই মাঠে নেমেছেন।

দলীয় মনোনয়ন চাওয়া বাকি ৪ জনের একজন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ কামরানের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও মনোনয়ন ঘোষণার পরই নৌকার বিজয়ে সকলকে কাজ করার আহ্বান জানান এবং সবশেষ কামরানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবেই কাজ করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, ২০ নং ওয়ার্ডের ৩ বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদও মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও পরবর্তীতে নিজ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেন এমনকি মেয়র পদে নৌকার বিজয়ের লক্ষ্যে নিয়মিতই বিভিন্ন গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন তিনি।

কিন্তু আজাদ মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রঞ্জিত সরকারের ভাগ্নে, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিঠু তালুকদার। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বরং আজাদুর রহমানকেই সমর্থন করেন মিঠু তালুকদার। ফলে এ ওয়ার্ডে আর কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন মহানগর আওয়ামী লীগের এ শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক।

এদিকে দলীয় প্রার্থীর প্রচারণায় ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় বিভিন্ন নেতারা অংশ নিয়েছেন এবং ধাপে ধাপে কেন্দ্রের একাধিক নেতা সিলেটে এসে নৌকার বিজয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবেন বলেও আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে।

সর্বশেষ গত ১২ জুলাই সিলেটে আসেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। এসময় তার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একটি দল কামরানকে সাথে নিয়ে নগরীতে প্রচারণায় অংশ নেয়। প্রচারণায় জাকিরের পাশাপাশি ছাত্রলীগ নেতারা জনগণের কাছে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে সিটি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে নৌকার প্রচারণায় সিলেটে আসেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা শেখ হেলাল এমপি, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। এছাড়া সিলেট আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় যোগ দিয়েছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ। সাথে ছিলেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনও। এমনকি এখনো দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সিলেটে থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কায়সার।

কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনে স্থানীয় নেতাদের মধ্যেও এক ধরণের প্রাণচাঞ্চল্যতা দেখা দিয়েছে। ফলে নৌকার বিজয়ে সকলেই যেন মরীয়া হয়ে ওঠেছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রতিদিনই নামছেন মাঠে। সকলেই গণসংযোগসহ বিভিন্ন রকম প্রচারণার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে সিটি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট চাইছেন।

এদিকে বিএনপিতে বিদ্রোহী এবং আওয়ামী লীগের ঐক্য এ দুইয়ে মিলে এবারের সিটি নির্বাচনের ফলাফল সময়ে সময়ে অনেকটা নৌকা প্রতীকের অনুকূলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।