নেই শহররক্ষা বাঁধ, বন্যা আতংকে সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জ জেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সুরমা নদী। বর্ষাকালে সেই নদী পানিতে ভরে টইটুম্বুর হয়ে ওঠে। শহররক্ষা বাঁধ না থাকায় নদীর পানি শহরে ঢুকে তলিয়ে যায় দোকানপাটসহ শহরে নিচু এলাকাগুলো। বিশেষ করে শহরের উত্তর আরপীন নগর, বড়পাড়া, তেঘরিয়া, নবীনগরে সুরমার পানি উপচে দ্রুত বন্যার সৃষ্টি হয়। ফলে এসব এলাকায় বসবাসকারীদের পোহাতে হয় সীমাহীন দুর্ভোগ।

এসব দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে সুনামগঞ্জ শহরের মানুষ দীর্ঘদিন থেকে শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও কোন কাজ হচ্ছে না। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই শহরাঞ্চলে তৈরি হয় বন্যা।

সুনামগঞ্জ শহরবাসীর যেখানে দীর্ঘদিনের দাবি শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ, সেখানে বাঁধ নির্মাণ তো দূরের কথা এখনো সুরমার ভাঙনই রোধ করতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ফলে দীর্ঘ ভাঙনের কারণে সুনামগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী লঞ্চঘাট ভেঙে প্রায় বিলীন হওয়ার পথে। এছাড়াও কিছু কিছু জায়গায় নামেমাত্র বালু সিমেন্ট মিশিয়ে কিছু বস্তা ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে সকল স্থানেই ভাঙন অব্যাহত আছে। ফলে বর্ষাকালে আতংকের মধ্যে থাকতে হয় সুনামগঞ্জ শহরের বাসিন্দাদের।

তবে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ এসব ভাঙনকে খুব অল্প ভাঙন উল্লেখ করে এগুলো মেরামত করা হবে বলে জানিয়েছেন।

ভাঙনের কবলে সুনামগঞ্জ শহর।

এদিকে কিছু দিন আগে ভারতের পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টিপাতের কারণে শহরের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়ে গিয়েছিল। ফলে সীমাহীন দুর্ভোগে দিন কাটিয়েছিলেন শহরবাসী। পরে দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকার পর সাময়িকভাবে সে দুর্ভোগ থেকে মুক্ত হলেও আতংক এখনো কাটেনি। তাই বন্যা আতংক থেকে স্থায়ী মুক্তির জন্য শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শহরে উত্তর আরপীননগর এলাকার বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, সুরমা নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। তা না হলে সুরমা নদীতে পানি বাড়লেই সড়কে পানি ওঠে যায়। ঐ সময়টাতে আমরা বন্যা ঝুঁকিতে থাকি। অনেক সময় দেখা যায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঘরের উঠোনে চলে আসে। তাই ছোট বাচ্চাদের ঘর থেকে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। কখন যে পানি ঘরে ওঠে যায় সে চিন্তায় সময় কাটাতে হয়।

শহরে থাকলেও সুবিধাবঞ্চিত উল্লেখ করে বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা খাইরুল মিয়া বলেন, আমাদের ঘরবাড়ি শহরে হলে কি হবে আমরা এখনো গ্রামেই আছি। অতি বৃষ্টি হলে সুরমা নদীর পানি বাসাবাড়িতে চলে আসে। দ্রুত যাতে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হয় সে জন্য আমরা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ দিকে পৌরমেয়র নাদের বখত বলেন, প্রয়াত মেয়র শহররক্ষা বাঁধের কাজ হাতে নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার কারণে কাজটি আর আলোর মুখ দেখেনি। আমি শহররক্ষা বাঁধের ব্যাপারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মিটিংয়ে বলেছি।

শহররক্ষা বাঁধ তৈরি করা পৌরসভার কাজ নয় জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এটি মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ। তবে বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে যা যা প্রয়োজন আমি করব। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলবো যে কিভাবে এই কাজটি করা যায়। এজন্য আমি ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প পাঠিয়েছি ঢাকায়। তবে কাজ সম্পন্ন করতে সময় লাগবে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস আপাতত শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণের কোন পরিকল্পনা নেই জানিয়ে বলেন, নদীর তীরে কিছু জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে সেগুলো মেরামত করা হবে। পৌরমেয়র বাঁধ নির্মাণের জন্য আমাদের লিখিতভাবে জানিয়েছেন। আমরা সেটি যাচাই বাছাই করে প্রকল্প ঢাকায় পাঠাবো। পরে সেই অনুযায়ী যদি ফান্ড আসে তাহলে কাজ করা যাবে। না হলে এখন এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব না বলে জানান তিনি।

তবে কর্তৃপক্ষ আপাতত শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণের কোন পরিকল্পনা নেই বললেও সুনামগঞ্জ শহরকে বন্যামুক্ত করতে শীঘ্রই শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ জরুরি বলেই মনে করছেন সকলে। শহরবাসীর দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।