নির্বাচন নিয়ে অজানা শঙ্কায় আরিফ

‘নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে প্রশাসন’ এমন অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। শুক্রবার (২৭ জুলাই) রাত ১০ টায় কাজিটুলাস্থ নির্বাচনী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরিফুল হক বলেন, গত কয়েকদিন থেকে আমার নির্বাচনী পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে মামলা দিয়ে হয়রানি, গ্রেপ্তার, বাসা বাড়িতে তল্লাশির মাত্রা আগের চেয়ে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বদর উদ্দিন কামরানের নির্বাচন কার্যালয় পোড়ানো ও বোমা হামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, এসব তাঁর সমর্থক নামধারী সন্ত্রাসীরা ও প্রশাসনের যোগ সাজসে করে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে। এমন অবস্থায় নগরীর ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আরিফুল হক।

তিনি আরো বলেন, ভোটের দিন আমার পোলিং এজেন্টদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা, গ্রেপ্তার, গুম করে ফলাফল সরকারী দলের প্রার্থীর পক্ষে নেয়ার পায়তারা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও বাসা বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আতংক সৃষ্টি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ সুরমায় পুলিশের উপর ককটেল নিক্ষেপ করে বিএনপির ৪৮ জন নেতাকর্মীর নামোল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হলো। এতে যাকে খুশি তাকে আসামী করে ফরমায়েসী মামলা করা হয়েছে। এতে এমনও আসামী আছে যে ৫ মাস ধরে জেলে। এসময় তিনি, কামরানের কার্যালয়ে ককটেল বিষ্ফোরন ও নগরীর বন্দরবাজারে তার কর্মীকে মারধরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আর কতো নাটকীয় ঘটনা আমার জন্য অপেক্ষা করছে জানিনা। তিনি বলেন, আগুন, সন্ত্রাস, বোমা, প্রশাসনের ষড়যন্ত্র না থামানো হলে, জনগনকে সাথে নিয়ে এর জবাব দেয়া হবে।

তিনি ভোটারদের সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মনে রাখবেন এই নির্বাচন স্থানীয় নির্বাচন, এতে রাষ্ট্রপ্রধান পরিবর্তন হয়না। আন্তরিকতা থাকলে রাষ্ট্রপ্রধান যেই হননা কেনো উন্নয়ন করা সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমাদের কাছে সব প্রমাণ নেই, আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারিনি, তবে খবর পেয়েছি রিটার্নিং কর্মকর্তা কিছু কিছু কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার পরিবর্তন করছেন। এটা অশুভ ইঙ্গিত। আমরা খবর পেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের কয়েকজন কর্মকর্তা এসেছেন ভিজিট করতে। এতে স্থানীয় প্রশাসনের উপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

এসময় তিনি সিলেটের সম্প্রীতির ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, এখনো নির্বাচনে উৎসবমূখর পরিবেশ, আর কয়েকদিন পরেই জাতীয় নির্বাচন এই মুহূর্তে একটি স্থানীয় নির্বাচনকে যদি প্রশ্নবিদ্ধ করা হয় তবে জাতীয় নির্বাচনে আমাদের যাওয়া না যাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হবে।

তিনি বদর উদ্দিন কামরানের উদ্দেশ্যে বলেন, যদি আপনি সিলেটের প্রতিনিধিত্ব করতে চান তাহলে এগুলো করে লাভ হবে না। আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন করতে চাই। জনগণ যদি আপনাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে তাহলে জনগণের রায় মেনে নিবো। নির্বাচনের ফলাফল না আসা পর্যন্ত মাঠ থেকে ফিরে যাবো না। আমাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। প্রয়োজনে জীবন দেবো তবুও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এমএ হক, আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বক্ত সাদেক, সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেহ আহমদ খসরুসহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।