নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার অভিযোগ

সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে নির্বাচন নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগটি করেছেন ওই উপজেলার বগলারখাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সাবাজ মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. সাবাজ মিয়া বলেন, গত ৫ জুন অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জের নোয়াখালী সপ্তগ্রাম উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন। তাকে বিজয়ী ঘোষণার পর জালিয়াতির মাধ্যমে পরাজিত প্রার্থীকে প্রভাব খাটিয়ে বিজয়ী ঘোষণা করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান। এ বিষয়ে তিনি সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নিকট সকল তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসককেও নির্দেশনা দেন।

মো. সাবাজ মিয়ার অভিযোগ, পরিকল্পনামন্ত্রীর নির্দেশনার পরও কোনো ধরনের নিয়ম-নীতি ছাড়াই সম্পূর্ণ অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে নোয়াখালী সপ্তগ্রাম উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সকল ডকুমেন্টসসহ ঘটনার বর্ননা দিয়ে আবেদন করার পরেও সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীকে সভাপতি অনুমোদন দেওয়া হয়। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে এমন জালিয়াতির ঘটনা শিক্ষাঙ্গনের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

তিনি বলেন, নোয়াখালী সপ্তগ্রাম উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি পদে নির্বাচন গত ৫ জুন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৫ ভোট প্রাপ্ত হলে প্রিসাইডিং অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অশোক রঞ্জন পুরকায়স্থ আমি সাবাজ মিয়াকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। প্রতিদ্বন্দ্বী খসরুজ্জামান পাভেল ৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। কিন্তু আমাকে বিজয়ী ঘোষণার পরপরই স্থানীয় জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত সুজন ভোটকেন্দ্রে জোরপূর্বক প্রবেশ করে আমার একটি ভোট বাতিল করান। এরপর দুই প্রার্থীর ভোট সমান বলে লটারি করেন তিনি। আমাদের তীব্র আপত্তির পরও লটারির মাধ্যমে পরাজিত প্রার্থী খসরুজ্জামান পাভেলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

মো. সাবাজ মিয়া আরও বলেন, প্রিসাইডিং অফিসার ৯টি ভোটের ব্যালট পেপার আমাদেরকে সত্যায়িত করে দিয়েছেন। ৯টির মধ্যে তিনি কোনো ব্যালট বাতিল করেননি বা বাতিল বলে স্বাক্ষরও করেননি। এ বিষয়ে আমরা গত ৬ জুন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের নিকট লিখিত আবেদন করি। তিনি আবেদনের ব্যাপারে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দিতে সুনামগঞ্জ জেলার শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। বিষয়টির ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ননা দিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বেআইনি সিদ্ধান্ত না দিতে ১৩ জুন সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নিকট পৃথক আবেদন করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করেন সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। জেলা শিক্ষা অফিসার তদন্ত শেষে গত ১৫ জুন জেলা প্রশাসকের নিকট নোয়াখালী সপ্তগ্রাম উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করেন তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যালোচনায় দেখা যায় খসরুজ্জামান পাভেল ৪ ভোট ও এবং মো. সাবাজ মিয়া ৫ ভোট পান। প্রিসাইডিং অফিসার ১টি ভোট বাতিলের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করেননি। এমতাবস্থায় সভাপতি নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত মো. সাবাজ মিয়াকে সভাপতি হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করা উচিত।

মো. সাবাজ মিয়া বলেন, এই জালিয়াতির সাথে জড়িত সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, শান্তিগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত সুজনসহ সকলের শাস্তি এবং এই অবৈধ কমিটি বাতিল করে নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীকে দিয়ে কমিটি অনুমোদনের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি এ বিষয়ে তদন্ত করে বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সুনামগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা যুব কমাণ্ড সভাপতি মো. ওবায়দুর রহমান কুবাছ, নোয়াখালী সপ্তগ্রাম উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন জাকির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।