নির্বাচনী প্রচারণা শুরু, উৎসবমুখর নগরী

মঙ্গলবার (১০ জুলাই) ছিল সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের নির্ধারিত দিন। এ দিন আগে থেকেই সকল প্রার্থীর পক্ষ থেকে প্রস্তুত রাখা হয় মাইক বাঁধা গাড়ি। সব কিছু প্রস্তুত থাকলেও অপেক্ষা নির্ধারিত সময়ের। সকলের চোখই ঘড়ির কাটার দিকে। ঘড়ির কাটা যখন ঠিক দুপুর ২টায় তখন এক সাথে বেজে ওঠলো সকল মাইক- আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে…। শুরু হলো আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা।

‘এবারের প্রার্থী যারা কামরান ভাই সবার সেরা; ভাবির হাতের রসের পিঠা, নৌকা মার্কায় বিসমিল্লাহ; আরিফ ভাইয়ের মার্কা ভালো, ধানের শীষের শীল মারো; ৩০ তারিখ সারা দিন, মই মার্কায় ভোট দিন; বাস গাড়িতে দিলে ভোট, ইনশাআল্লাহ হবে সুখ; উড়ছে পাখী দিচ্ছে ডাক, হরিণ মার্কা জিতে যাক; মোয়াজ্জেম ভাইয়ের মার্কা কি? হাতপাখা ছাড়া আর কি; টেবিল ঘড়িতে দিলে ভোট, নগরবাসী পাবে সুখ।’ ইত্যাদি ছন্দের প্রচারণায় মুখর হয়ে ওঠে নগরী।

আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এ নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ৭ জন, সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী ১৭২ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী ৬২ জনসহ মোট ১৯৬ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনারের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে এসব প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর পরই শুরু হয় আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। তবে মাইকের আওয়াজ আসে বেলা ২ টায়। সকল প্রার্থীই মাইক ব্যবহার করে বিভিন্ন ছন্দের সাহায্যে ভোটারদের মনাকর্ষণ করার চেষ্টা শুরু করেছেন।

প্রার্থীদের মধ্যে ৭ জন মেয়র প্রার্থীর একজন আওয়ামী লীগ মনোনীত বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পেয়েছেন নৌকা প্রতীক, বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক।

এছাড়াও নাগরিক কমিটি মনোনীত প্রার্থী সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম পেয়েছেন বাসগাড়ি প্রতীক, মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের পেয়েছেন টেবিল ঘড়ি, ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীক, সিপিবি-বাসদ মনোনীত প্রার্থী আবু জাফর মই ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসানুল হক তাহের প্রতীক পেয়েছেন হরিণ।

এসব মেয়র প্রার্থীর প্রত্যেকেই প্রতিদিন দুপুর দুইটা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত প্রতি ওয়ার্ডে ১ টি করে মাইক ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাবেন। তবে প্রতি ওয়ার্ডে দিনে ১টি মাইকের বেশি এবং এসব মাইকে কোনভাবেই অন্য প্রার্থীর জন্য অবমানকর কোন শব্দ ব্যবহার করতে পারবেন না বলে নির্বাচন কমিশন থেকে নির্বাচনী আচরণবিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অপরদিকে প্রতি সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী ১ টি করে মাইক এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী পুরো আসনে মিলে মোট ৩টি মাইক ব্যবহারের অনুমতি পাবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে প্রতীক বরাদ্দের প্রথম দিনই প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় মুখর হয়ে ওঠেছে পুরো নগরী। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে চলছে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা। মাইকের নানা ছন্দতো আছেই, সেই সাথে লিফলেটে বিতরণসহ প্রচারণার নানা কৌশল ব্যবহার করছেন প্রার্থীরা।

নগরীর ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সায়েম আহমদ বলেন, “যদিও মাইকের শব্দ একটি বিরক্তের কারণ, কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণাতো খুব বেশি দিন ধরে হয় না। তাই খুব একটা সমস্যা হবে বলে মনে হচ্ছে না। তাছাড়া প্রার্থীদের পক্ষে বিভিন্ন ছন্দের প্রচারণা কিছুটা উপভোগ্যও লাগছে।”

তবে শুরুর দিকে প্রার্থীদের এমন প্রচারণায় নাগরিকরা উপভোগ করলেও প্রচারণার পরিমাণ বেশি হলে এটা বিরক্তের কারণ হতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।

নগরীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অন্যা দেব বলেন, “মাইকিংটা অবশ্যই প্রচারণার ভালো একটি মাধ্যম। এটি নির্দিষ্ট একটা সময়ে হলে খারাপ লাগার কথা নয়। তবে মাইকিং যেন এমন না হয় যে, পাবলিকের কাছে বিরক্ত লাগে। মাইকিং দীর্ঘ সময় ধরে হলে এটা বিরক্তের কারণ হবে। আর শ্লোগানটা ভালো মানের হওয়া দরকার।”

এদিকে নির্বাচনী প্রচারণার এসব গাড়ি ঘিরে শিশুদের মধ্যে লিফলেট সংগ্রহের এক ধরণের প্রতিযোগিতাও শুরু হয়েছে। তবে এসব প্রতিযোগিতায় ধাক্কাধাক্কি করে শিশুরা গাড়ির নিচে পড়ে যাওয়ার একটি ভয়ও কাজ করছে অভিভাবকদের মাঝে। বিশেষ করে পরিবারের মহিলারা এসব শিশুদের রীতিমত পাহারাই দিচ্ছেন।

৭ নং ওয়ার্ডের কলাপাড়ার বাসিন্দা সুরাইয়া ইসলাম বলেন, “মাইকে নানা ছন্দ ব্যবহার হয়। এসব ছন্দ শোনতে ভালোই লাগে। তবে এসব মাইকের গাড়ি যখন আসে তখন বাচ্চারা দৌড়ে চলে যেতে চায় লিফলেট আনতে। তাই অনেকটা পাহারা দিতে হয় তাদের।”

তবে গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হওয়ায় এর প্রচারণাকে নগরবাসী একটি উৎসবের আমেজ হিসেবেই গ্রহণ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। এ প্রচারণার আমেজ শেষ হবে নির্বাচনের দু’একদিন আগে। এর আগ পর্যন্ত প্রচারণার এ মাধ্যম কিছুটা বিরক্তের কারণ হলেও সকলেই মেনে নিবেন বলে মনে করছেন সচেতন নগরবাসী।