নারায়ণগঞ্জে বাস-লরি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাস ও লরির সংঘর্ষে এপর্যন্ত ১০ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে‌ উপজেলার রতনদী এলাকায় ক্যান্টাকি গার্মেন্টের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এতে ঘটনাস্থলে এক শিশু ও এক নারীসহ চার জন নিহত হয়। বাকি ৬ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) নেওয়ার পর মারা যান। তাদের মধ্যে জিয়াসমিন (২১) নামের এক গার্মেন্ট কর্মী ও শুভ সাহা (১৮) নামের এক যুবকের পরিচয় জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

কাচপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম আলী সরদার জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রতনদী এলাকায় ক্যান্টাকি গার্মেন্টের সামনে সোমবার দুপুরে ‘এমডি ইয়াসিন’ নামের একটি চট্টগ্রামগামী যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি লরিকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে নারী ও শিশুসহ চার জন নিহত হয়। পরে ঢামেক হাসপাতালে নেয়ার পর আরও এক নারী ও শিশুসহ আরও পাঁচ জন মারা যান। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ জনে। আহত আরও ৩০ যাত্রীকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে উল্লেখ করে ওসি কাইয়ুম আলী জানিয়েছেন, দুঘর্টনা কবলিত বাস ও লরিটি আটক করা হয়েছে।

এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কাচপুর হাইওয়ে পুলিশ নিহত চার জনের লাশ উদ্ধার করে। তাদের পরিচয় উদঘাটনে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। এ ঘটনার পর পরই মহাসড়কের দু’পাশে তীব্র যানজট তৈরি হয়।

এ ঘটনার পর দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমান পিপিএম বার বিপিএম, ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আবুল কালাম সিদ্দিক, গাজীপুর রিজিওন হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম পিপিএম, নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মতিয়ার রহমান। পরে তারা সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আহতদের খোঁজ-খবর নেন।

অন্যদিকে, ঢামেক হাসপাতালে নিহত পাঁচ জনের মধ্যে শুভ সাহা (১৮) নামের একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। শুভ চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের গোপাল সাহার ছেলে। নিহত অন্যদের মধ্যে ছয় বছরের এক শিশু, ৪৫ বছরের এক পুরুষ, ৫০ বছরের এক নারী ও ৬০ বছরের এক বৃদ্ধা রয়েছে।

ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন—হালিম, কালাম, রিপন, মিজান, ফরহাদ, রাজু, কুদ্দুস, হাসান, আশিক, জাহাঙ্গীর, বাবুল, মাজেদা এবং তার নাতনি জান্নাত ও আফরিন।

জরুরি বিভাগের সামনে নিহত শুভর মা আহত কাজল রানী সাহা জানান, গাজীপুর থেকে ছেলেকে নিয়ে চাঁদপুরে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন তিনি। কাচপুর থেকে তারা লোকাল বাসটিতে ওঠেন। পথে একটি রিকশাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে আসে বাসটি। টিপুরদী অতিক্রম করে রতনদী এলাকার একটি গার্মেন্টের সামনে বাসটি দুর্ঘটনায় পড়ে।

আহত বাসযাত্রী আলমগীর জানান, কাচপুর থেকে তিনি বাসে ওঠেন। তার বাড়ি ভৈরব এলাকায়। পথে সোনাখালী এলাকায় একটি রিকশাকে ধাক্কা দেয় বাসটি। পরে বাসের চালক নিজেকে বাঁচাতে দ্রুতগতিতে বাস চালানোর সময় উপজেলার রতনদী এলাকায় একটি লরিকে অতিক্রমকালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

ঢামেক হাসপাতাল ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে আনা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর পাঁচ জন মারা যান। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন জানান, তারা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। লরিকে ধাক্কা দিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে পড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সেখানে কাজ করে।