নতুন না পূর্ণাঙ্গ কমিটি, দ্বিধায় মহানগর ছাত্রলীগ

সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে চলছে ইঁদুর-বিড়াল খেলা। আসন্ন কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে না নতুন করে হবে এ নিয়ে চলছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব। মহানগর ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি আসবে এই আশায় পদ প্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করলেও মহানগর ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি সাধারণ সম্পাদক কোনভাবেই যেন নতুন কমিটির বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। বরং তারা এখনো সেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির কথাই বলছেন।

২০১৫ সালের জুলাই মাসে মাত্র চার সদস্যবিশিষ্ট সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কমিটিতে আব্দুল বাছিত রুম্মানকে সভাপতি, আব্দুল আলীম তুষারকে সাধারণ সম্পাদক, সজল দাস অনিক ও সৈকত চন্দ্র রিমীকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।

এরপর নিয়ম অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে এর তালিকা পাঠানোর কথা থাকলেও এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এ সভাপতি সাধারণ সম্পাদক। বরং পূর্ণাঙ্গ কমিটির লোভ দেখাতে দেখাতে দলের জুনিয়র নেতাদের রেখেছেন অপেক্ষায়। ছাত্রলীগের জুনিয়র নেতারা একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে এ কমিটির দু-বছরের মেয়াদ পার করছে তিন বছর। কিন্তু কমিটি আর পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এ কয়েকদিন থেকে নতুন কমিটি আসার গুঞ্জন শোনা গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটির বার্তাই প্রচার করছেন এ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

তবে ছাত্রলীগের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সাথে মহানগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি আসার কথা রয়েছে। এ লক্ষ্যে পদ প্রত্যাশীরাও জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়া শুরু করেছেন।

এদিকে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল বাছিত রুম্মান নতুন কমিটির বিষয়টি একেবারেই অস্বীকার করছেন। বলেছেন পূর্ণাঙ্গ কমিটির কথা। শুধু তাই নয়, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ব্যর্থতার দায়ও যেন নিতে চাচ্ছেন না। বরং এ দায় কেন্দ্রের দিকেই ঠেলে দিচ্ছেন তিনি।

আব্দুল বাছিত রুম্মান বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি মহানগর ছাত্রলীগের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। ইতিমধ্যে পদ প্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্তসহ কেন্দ্রে একটি তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই এ তালিকা অনুযায়ী কমিটি ঘোষণা করা হবে।’

এতো দিনেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা না করার কোন কারণ আছে কি না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এর সঠিক কোন কারণ আমার জানা নেই। আমরা অনেক আগেই কেন্দ্রে তালিকা পাঠিয়েছি। এখন কেন্দ্র কেন দিলো না তা আমাদের জানা নেই। হয়তো দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি, জঙ্গিবাদের উত্থানসহ নানাবিধ কারণে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।’

মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তুষারও যেন সুর মিলালেন রুম্মানের সাথে। তিনিও নতুন কমিটির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। তিনিও বলেন- ‘নতুন কমিটি নয় একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি আসবে।
কিসের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটির পদ বন্টন করা হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে আব্দুল আলীম তুষার বলেন, যারা দীর্ঘ দিন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে আছে এমনকি যাদের উপর কোন খুনের বা চুরি ছিনতাই মামলা নেই এবং যাদের ছাত্রত্ব আছে তাদেরকেই কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে।’

দুই বছর মেয়াদী এ কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর পরও নতুন কমিটির বদলে পূর্ণাঙ্গ কমিটির কথা বলায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ছাত্রলীগের অনেক নেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী বলছেন দীর্ঘদিন থেকে এরকম কমিটি ধরে রাখা ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না দেওয়ায় নতুন নেতৃত্ব তৈরি হতে পারছে না। এভাবে চলতে থাকলে একসময় নেতৃত্বশুন্যতা তৈরি হবে বলে তারা জানান।