ধোপাদীঘি রক্ষায় সিলেটে বাপা’র নাগরিকবন্ধন

সিলেটের হাতেগোনা প্রাকৃতিক জলাধারের অন্যতম ধোপাদীঘি। এই ধোপাদীঘির অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ না করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও দীঘির মধ্যবর্তী জায়গা ভরাট করে রাস্তাসহ স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদে সিলেটে পরিবেশবাদীদের উদ্যোগে ‘নাগরিকবন্ধন’ কর্মসুচি পালন করা হয়েছে।

সোমবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সম্মুখে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), সিলেট শাখা এই নাগরিকবন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও পরিবেশবাদীদের অংশগ্রহণে ঘন্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে নাগরিক প্রতিনিধিরা সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

গণজাগরণ মঞ্চ, সিলেটের মুখপাত্র দেবাশিষ দেবুর সঞ্চালনায় ও বাপা, সিলেট শাখার সহ-সভাপতি ই ইউ এমাদুল্লাহ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মসূচির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন বাপা, সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম।

স্বাগত বক্তব্যে আব্দুল করিম কিম বলেন, পুকুর ও দীঘির নগরী খ্যাত সিলেটের হাতেগোনা প্রাকৃতিক জলাধারের অন্যতম ধোপাদীঘি। ধোপাদীঘির পার্শ্ববর্তী স্থানেই সিলেট জেলা কারাগার। ধোপাদীঘি ও দীঘির পার্শ্ববর্তী সিলেট জেলা কারাগারের স্থানে একটি উন্মুক্ত পার্ক নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন আলোকিত সিলেটের স্বপ্নদ্রষ্টা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনকালে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে এই পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ছিল। যা নগরীর ফুসফুস হিসাবে কাজ করবে বলে তিনি একাধিকবার উল্লেখ করেছেন। নির্বাচনের পর সরকারের অর্থমন্ত্রী হয়ে জেলা কারাগারের জন্য নতুন জায়গা নির্ধারন করেন তিনি। সে জায়গাতে আধুনিক কারাগার ভবন নির্মাণের কাজ শুরুও হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সরকারের দুই মেয়াদেও কারাগার স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। জেলা কারাগারের পরিত্যক্ত জায়গায় উন্মুক্ত পার্ক স্থাপনের জন্য যেখানে ধোপাদীঘিকে দখলদারদের হাত থেকে পুনরুদ্ধার করা উচিত ছিল, সেখানে দীঘিটি গত দশ বছরে আরও সংকুচিত হয়েছে। এ অবস্থায় দীঘির অভ্যন্তর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ ও দখলদারদের উচ্ছেদ না করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ শুরু করায় দীঘির ভবিষ্যত নিয়ে আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। তাই ধোপাদীঘি রক্ষায় বাপা এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

সভাপতির বক্তব্যে ই ইউ শহিদুল ইসলাম বলেন, ধোপাদীঘির সাথে সিলেটের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সম্পর্ক রয়েছে। এই দীঘি সিটি কর্পোরেশনের একশ্রেণীর কর্মকর্তাদের স্বার্থের কারণে দখলমুক্ত হচ্ছে না।

তিনি ধোপাদীঘির অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য একটি নাগরিক সংগ্রাম কমিটি গঠনের কথা বলেন।

ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ভুমিসন্তান বাংলাদেশ’ এর আশরাফুল কবির বলেন, পুকুর-দীঘি রক্ষায় পরিবেশবাদীদের সাথে নাগরিকদের শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন ।

তিনি বলেন, ভালো কাজে সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে গণমাধ্যম সমর্থন দিয়েছে। ধোপাদীঘির ক্ষতি করে কোন স্থাপনা নির্মাণ করা হলে গণমাধ্যম তার সমালোচনাও করবে।

সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বদর ধোপাদীঘির জায়গা ভরাট করে অন্যায়ভাবে তৈরি করা শিশু পার্ক উচ্ছেদের দাবি জানান। এই পার্ক বন্দোবস্তকালে তৎকালীন সিলেট পৌরসভার দায়িত্বশীলরা দুর্নীতি করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সমাজকর্মী ড. নাজরা চৌধুরী সিলেটের প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সকলকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ধোপাদিঘিতে স্থাপনা নির্মান বন্ধ করার দাবি জানান।

বেলা’র শাহ শাহেদা আখতার বলেন, ধোপাদীঘিতে যা হচ্ছে, তা দীঘির জন্য ক্ষতিকর। পুকুর বা দীঘির মূল সৌন্দর্য্য বিনষ্ট করা হলে বা শ্রেণী পরিবর্তন করা হলে আদালতের সাহায্য নেয়া হবে ।

নাগরিক সংগঠক এডভোকেট গোলাম সোবহান চৌধুরী দীপন বলেন, দীঘির জায়গায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের লিজকৃত ‘ওসমানী শিশু পার্ক’ নামের রুচিহীন স্থাপনা উন্মুক্ত পার্ক ও জলাধারের স্বপ্নকে পরিহাস করে।

সংহতি জানিয়ে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক আ ফ ম সাঈদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও উর্বশী’র সভাপতি মোকাদ্দেস বাবুল, নাগরিক মৈত্রী সিলেটের আহ্বায়ক সমরবিজয় সি শেখর, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক সাংবাদিক ছামির মাহমুদ, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক প্রণব কান্তি দেব, সারি বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল হাই আল হাদী, ব্যবসায়ী মোহাইমিন চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সংগঠন শতভিষা’র মুখ্য নির্বাহী রীমা দাস, আবৃত্তিশিল্পী সাইমুম আনজুম ইভান, উইমেন ওয়ার্ডস এর সম্পাদক অদিতি দাস, নারী সংগঠক বর্ণা ব্যানার্জি, লিটল ম্যাগাজিন মেঠোসুর এর সম্পাদক বিমান তালুকদার, বাপা সংগঠক সুপ্রজিত তালুকদার, সিলেট ডিবেট ফেডারেশনের সভাপতি রেদোয়ান আহমদ, ইয়াং বাংলার কো-অর্ডিনেটর আলি হাসান রুমেল, তরুণ সংগঠক নাবিদ হাসান, অরূপ রায় প্রমুখ।