দোয়ারায় ফসল রক্ষা বাঁধের নামে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা জলে

দোয়ারাবাজার উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধের নামে সরকারি ৪৮লাখ ৩০হাজার টাকার অপচয় করা হ”েছ। ফলে বোরো ফসলের বদলে সরিষা ক্ষেতে সরকারি অর্ধ কোটি টাকা এখন জলে।

উপজেলার নাইন্দার হাওরে ১৫নং পি-আইসি ও ২৭নং পি-আইসির কাজ করা হয়েছে সরিষা ক্ষেতে। হাওরের বোরো ফসল রক্ষার জন্য বাঁধ নির্মাণের কথা থাকলেও এখানে হয়েছে তার উল্টোটা। দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের প্রায় আড়াই কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে সরিষা আর ধনিয়া ক্ষেতে।

গত শনিবার বাঁধ পরিদর্শন কালে অপ্রয়োজনীয় বাঁধের বরাদ্ধ বাতিল করা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উহ-সহকারী প্রকৌশলী দোয়ারাবাজার হাওর রক্ষা বাঁধের তদারকি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।

এছাড়া অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ। তিনি বলেন ‘আগে বাঁধের এই অংশটুকু দেখিনি, এখন দেখে মনে হ”েছ আসলে এখানে বাঁধের কোন প্রয়োজন ছিল না।’

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এই বাঁধের ভেতরের অংশের এরিয়াতে কোন বোরো ফসল নেই, সেখানে রয়েছে শুধু  সরিষা আর ধনিয়া ক্ষেত। বেড়িবাঁধের এরিয়ার ভেতরে যে সকল সরিষা আর ধনিয়া ক্ষেত রয়েছে সবই এসময়ের ভেতরে উঠানো শেষ হয়ে গেছে। তাহলে এখানে এত বড় বরাদ্দ আর এত বেশি বাঁধ কেন, কার স্বার্থে? নাকি বরাদ্দ আত্মসাত; এমন প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে। অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণের সময় এলাকার অনেকেই বাঁধা দিলে তাদের বিভিন্ন ভয় ভীতি দেখিয়ে অনেকের ফসলী জমির উপর দিয়ে বাঁধ দেয়া হয়েছে বলেও জানান এলাকাবাসী। এমন কি এই বাঁধের পাশে অনেকের বাড়ির ভিটে কেটে সমতল করে বানানো হয়েছে বাঁধ।

শরীপপুর গ্রামের সরিষা চাষী রেনু মিয়া বলেন, আমার সরিষা আর ধনিয়া খেতের উপর দিয়া বাঁধ দেয়ার সময় আমি বাঁধা দিয়েছিলাম কিš‘ তাজির উদ্দিন মেম্বার আমারে প্রসাশনের ভয় দেখিয়ে আমার প্রায় এক কেদার জমি নষ্ট করেছেন।

বড়বন্দ গ্রামের হার“ন মিয়া বলেন, নদীর পাড়ে আমার কিছু মরিছ ক্ষেত করেছিলাম। সব মরিছ ক্ষেত নষ্ট করেছেন তাজির উদ্দিন মেম্বার। যে এলাকায় এত টাকা খরছ করে বাঁধ দেয়া হয়েছে এখানে বাধের কোন প্রয়োজন ছিল না। অযথা বাঁধ দেয়া হয়েছে এই পুরো এরিয়াতে কোন বোরো ফসল নেই।

এ ব্যপারে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, এই এরিয়ার ভেতরে বোরো ফসল নাই তা ঠিক আছে কিš‘ পানি উন্নয়নের তাদের নিজস্ব কিছু নকশা আছে, সেই নকশা অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। নতুন করে কোন কাজ করা হয় নাই। আরেকটা নকশা পরিবর্তন করা হয়েছে যে কাজটি ছাতক দোয়ারার পাকা রাস্তায় ছিল।