দুর্গা পূজায় সরকারি ছুটি ৩ দিন করার দাবি

বাংলাদেশে হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজায় তিন দিন সরকারি ছুটির দাবি জানিয়েছে হিন্দু ধর্মীয় কয়েকটি সংগঠন।

শুক্রবার (২৯ জুন) ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘শারদীয় দুর্গা পূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটি বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি’র ব্যানারে অনুষ্ঠিত কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানানো হয়। এসময় দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনেরও প্রতিবাদ জানানো হয়।

হিন্দু মহাজোটের সভাপতি প্রভাস চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে, শারদাঞ্জলী ফোরাম–ঢাকা মহানগর এর সভাপতি রতন চন্দ্র পাল, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের নির্বাহী সভাপতি বাবুল দাশ প্রমুখ।

প্রভাস চন্দ্র রায় বলেন, “আমরা বর্তমান সরকারের কাছে আশা করেছিলাম, শারদীয়া দুর্গা পূজায় সরকারি ছুটি এক দিনের পরিবর্তে তিন দিন করা হবে। কিন্তু সরকার এখনও নিশ্চুপ। শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এ উৎসব সমগ্র বাঙালির ঐক্যের ও মিলনের মহোৎসব। অথচ এই উৎসবের সরকারি ছুটি দুর্গোৎসবের শেষ দিনে। সরকারি ছুটি এক দিন থাকায় অনেক পরিবারের কাছে উৎসবটি রূপ নেয় বেদনায়। অনেকে শহর ছেড়ে যেতে পারে না পরিবারের কাছে।”

হিন্দু পরিষদের মুখপাত্র সুমন কুমার রায় বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম, অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ সমান সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে। কিন্তু সংবিধানের সেই প্রতিশ্রুতি কেবল কাগজে কলমেই থেকে গেছে। ধর্মান্ধতা এ দেশের এক শ্রেণির মানুষকে মুর্খ করে রেখেছে। যার কারণে হিন্দুরা প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছে।”

দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু নারীদের অপহরণ, গণধর্ষণ, হত্যা, মন্দির দখল সহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নিপীড়ন ও নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরে প্রতিবাদ জানানো হয় সমাবেশে।