দলবদল : আলোচনায় একঝাঁক ব্রাজিলিয়ান

এখন পর্যন্ত দলবদলের যা খবর তাতে বেশি উচ্চারিত নাম ব্রাজিল। নেইমারের দল বদলের অবশ্য কোন খবর নেই।

রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই দলবদলের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। নেইমার, অ্যালিসন, কোর্তোয়ার দলবদল নিয়ে চাওর ছিল সংবাদ মাধ্যম। বিশ্বকাপের মধ্যেও নেইমার, এমবাপ্পে, হ্যাজার্ড, পেরিসিচদের নিয়ে কথা হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বকাপ চলাকালীন ব্রাজিলের বিশ্বকাপে দলে জায়গা পাওয়া ফ্রেডকে কিনে নেয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্টাসে এসেছেন রোনালদো।

ফ্রেড : চোটের কারণে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপের কোন ম্যাচে খেলা হয়নি ফ্রেডের। তবে শাখতার দোনেস্কের এই তরুণ তার পারফর্ম দিয়ে যেমন ব্রাজিল কোচ তিতের নজরে আসেন। তেমনি নজরে আসেন ম্যানইউ কোচ মরিনহোর। তাকে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই কিনে নেয় ইংলিশ লিগের ক্লাবটি। তার জন্য খরচ করতে হয়েছে ৫২ মিলিয়ন পাউন্ড।

অ্যালিসন : রিয়াল মাদ্রিদ, লিভারপুলের চোখ ছিল ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসনের দিকে। চেলসিও চোখে রেখেছিল তার দিকে। কারণ বেলজিয়াম গোলরক্ষক কোর্তোয়া রিয়ালে চলে গেলে অ্যালিসন তার জায়গা পূরণ করবেন। তবে ব্রাজিল গোলরক্ষক ইতালির ক্লাব রোমা থেকে রেকর্ড গড়ে লিভারপুলে এসেছেন। তার জন্য লিভারপুল ব্যয় করেছে ৬৭ মিলিয়ন পাউন্ড। ফুটবল ইতিহাসে কোন গোলরক্ষকের জন্য এত অর্থ ব্যয় করেনি কোন ক্লাব।

ফ্যাবিনহো : ব্রাজিলের ২৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার ফ্রান্স ক্লাব মোনাকে থেকে লিভারপুলে যোগ দিয়েছেন। কৌতিনহোর জায়গা পূরণ করতে তিনি লিভারপুলের জন্য কতটা করতে পারেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। ফ্যাবিনহোর জন্য ব্রাজিল খরচ করেছে ৩৯ মিলিয়ন পাউন্ড।

ভিনিসিয়াস জুনিয়র : বয়স মাত্র ১৮ বছর। তবে এরইমধ্যে দলবদলের বাজারে বড় প্রভাব রেখেছেন তিনি। ব্রাজিলের ক্লাব থেকে তরুণ এবং ভবিষ্যত এই তারকাকে দলে টেনেছে রিয়াল মাদ্রিদ। তার সঙ্গে অবশ্য রিয়াল আগেব চুক্তিটা করে রেখেছিল ব্রাজিলের ক্লাবের সঙ্গে। তবে ভিনিসিয়াস রিয়ালে যোগ দিলেন চলতি মৌসুমে। রিয়ালের শুরুর একাদশে জায়গা করে নিতে চান বলেও জানিয়েছেন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ভিনিসিয়াস। ৪০ মিলিয়ন ইউরোতে রিয়ালে যাওয়া এই তরুণ অবশ্য রিয়ালের নাম্বারধারী কোন জার্সি এখনো পাননি।

রদ্রিগো : ব্রাজিলের নতুন নেইমার বলা হয় তাকে। খেলেন পেলে-নেইমারের ক্লাব সান্তোসে। জহুরির চোখ দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ১৭ বছর বয়সী এই তরুণকে খুঁজে বের করেছে। তার জন্য বার্সেলোনাও নাকি প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ১৭ বছর বয়সেই তিনি রিয়ালে আসার সুযোগটি সেরা হবে বলে মনে করেছেন। তার সঙ্গে রিয়াল ৪৫ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তি করেছে। তিনি ২০১৯ সালে রিয়ালে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।

উইলিয়ান : ব্রাজিল তারকা উইলিয়ানের দিকে চোখ রেখেছে বার্সেলোনা। তাকে দলে ভেড়াতে এরই মধ্যে চেলসিকে তিনবার প্রস্তাব দিয়েছে বার্সেলোনা। কিন্তু এখনো সাড়া মেলেনি। তার দাম ৫৩ মিলিয়ান ইউরো থেকে বাড়িয়ে ৫৫ মিলিয়ন করে দিয়েছে বার্সা। উইলিয়ান অবশ্য বার্সেলোনায় আসতে আগ্রহী। তাকে কেনার ব্যাপারে ব্রাজিল তারকার ভিন্ন ভিন্ন পজিশনে খেলতে পারাকেই বড় করে দেখছেন বার্সেলোনা কোচ ভালভার্দে।

ডগলাস লুইস : ব্রাজিলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় তিনি। ম্যানসিটি তাকে আরও আগেই দলে ভিড়িয়েছে। কিন্তু জিরোনায় ধারে ছেড়ে দেয় ডগলাস লুইসকে। জিরোনায় অবশ্য লুইস বেশি খেলার সুযোগ পাননি। তবে লুইসের ওপর ভরসা রাখতে চান ম্যানসিটি কোচ গার্দিওয়ালা। তাছাড়া লুইসও ম্যানসিটি কোচকে অনুরোধ করেছেন তাকে দলে ফিরিয়ে আনার জন্য। ম্যানসিটিতে ফিরেও আসছেন তিনি।

পাউলিনহো : চীন থেকে ইউরোপের ফুটবলে ফিরেছিলেন ব্রাজিলের মিডফিল্ডার পাউলিনহো। বার্সেলোনা চীনের ক্লাবের এক মিডফিল্ডারকে কেনার জন্য বেশ সমালোচিত হয়েছিল। এরপর পাউলিনহো ব্রাজিল কোচের পাশাপাশি বার্সেলোনা কোচের মনও জয় করেছিলেন। ভক্তদের সমর্থনও পান এই তারকা। এরপর পাউলিনহোর বিশ্বকাপ কেটেছে ভালো-খারাপ মিলিয়ে। কিন্তু পাউলিনহোকে ইউরোপের ফুটবলের সঙ্গে থাকা হলো না। বার্সেলোনা সবাইকে অবাক করে দিয়ে তাকে ধারে চীনের ক্লাব গুয়াংজুকে আবার ছেড়ে দিয়েছে।