তুরিন আফরোজকে অব্যাহতি, নেয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা

পেশাগত অসদাচরণ, শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সব মামলার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার (৭ মে) চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখা থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে তুরিন আফরোজের গোপন বৈঠক সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু আইন মন্ত্রণালয় তাদের নিয়োগ দিয়ে থাকে, তারাই পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে ওয়াহিদুল হকের মামলার টিমের সদস্য হিসেবে অপর প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বলকে শুধু এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নথি আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়ে বুধবার (৯ মে) রাতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, “এখন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনে যেটা বলা আছে, তাই হবে।”

এর আগে, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এক আসামির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ গোপনে বৈঠক করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, “এই অভিযোগ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত বুধবার ‍দুপুরে প্রসিকিউশন থেকে আইন মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়।”

তিনি বলেন, “গত ৭ মে চিফ প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজকে সংশ্লিষ্ট ওয়াহিদুল হকের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এরপর গত ৮ মে তাকে প্রসিকিউশনের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটরের এ সংশ্লিষ্ট দুটি চিঠি, তুরিন আফরোজের সঙ্গে আসামির কথোপকথনের ( (গত ১৮ ও ১৯ নভেম্বরের) সিডিসহ নথি আজ (৯ মে) সকালে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মালিক আইন মন্ত্রণালয়।”

উল্লেখ্য, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হককে গত ২৪ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠান।

প্রসিকিউশনের সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ নভেম্বর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামি ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে করা মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ ওই আসামির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ রয়েছে জানিয়ে তাকে পালিয়ে যেতে বলেন। এছাড়া, এ বিষয়ে ওয়াহিদুল হকের কাছে প্রসিকিউটর তুরিন মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। পরে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার নজরে এলে প্রসিকিউটর তুরিনকে এ মামলা থেকে প্রাথমিকভাবে অব্যাহতি দেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। পাশাপাশি এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত চলা অবস্থায় তার হাতে থাকা ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য মামলা থেকেও তুরিনকে অব্যাহতি দেন চিফ প্রসিকিউটর। বুধবার (৯ মে) তুরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।