ড্রপ-আউট পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

প্রচলিত শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ড্রপ-আউট পদ্ধতি বাতিল করে ক্যারি অন পদ্ধতি চালুর দাবিতে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৪ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে (ড. এম এ ওয়াজেদ ভবনের পিছন দরজায়) সকল অনুষদের সাধারণ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা জানান, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনা বা অসুস্থতাজনিত কারলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারলে বা তিনের অধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও তাকে পরবর্তী সেমিস্টারে উত্তীর্ণ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অকৃতকার্য বিষয়সমূহ শর্ট সেমিস্টারে অংশগ্রহণ করে পুরণ করার সুযোগ দেওয়া হয়।

কিন্ত হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই সুযোগ প্রদান করা হচ্ছে না। এছাড়াও শর্ট সেমিস্টার বা মানোন্নয়নের জন্য একজন শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট ফি প্রদান করে ইমপ্রুভ দিতে পারে এবং সে যত মার্ক অর্জন করবে তাকে তা দেয়া হয়। অথচ এই সুযোগটিও এখানে প্রদান করা হচ্ছে না। তাই ক্যারি অন পদ্ধতি চালুর দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছে।

মানববন্ধনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী সরোয়ার জাহান বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯টি অনুষদের অধীনে বিভিন্ন মেয়াদে বিভিন্ন কোর্স কারিকুলামে প্রায় ২২ টি ডিগ্রি প্রদান কারা হয়ে থাকে। বিভিন্ন ডিগ্রি প্রদানের ক্ষেত্রে ক্রেডিট আওয়ার ও কোর্সের সংখ্যার অনেক তারতম্য রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কোন বিভাগে ১ সেমিস্টারে ১৬ টি কোর্স রয়েছে একই সেমিস্টারে অন্য বিভাগগুলোতে ৫ টি অথবা ৮ টি কোর্স রয়েছে। যেখানে সব ক্ষেত্রেই সেমিস্টার ড্রপের জন্য ৩ টি বিষয়কে বিবেচনা করা হয়। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং এটি কোন নিয়মের মধ্যে পড়ে না। সেমিস্টার পদ্ধতিতে ড্রপ আউট পদ্ধতি এরকম নিয়ম অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই।

দাবি সমূহের মধ্যে রয়েছে :

  • অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতার বাহিরে ক্যারি অন সিস্টেম চালু করতে হবে। অর্থাৎ কোন শিক্ষার্থী অসুস্থতা বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারলে অথবা ৩ এর অধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও তাকে পরবর্তী সেমিস্টারে উত্তীর্ণ করতে হবে এবং অকৃতকার্য বিষয়সমূহ শর্ট সেমিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। উক্ত বিষয় সমূহ প্রতি বছরে শর্ট পরীক্ষার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।
  • শর্ট সেমিস্টার বা মানোন্নয়নের জন্য সকল বিষয় উন্মুক্ত রাখতে হবে। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী ইচ্ছানুযায়ী নির্দিষ্ট ফি প্রদান করে ইমপ্রুভ দিতে পারবে।
  • ইমপ্রুভমেন্ট রেজাল্ট B+ থেকে A+ উন্নীত করতে হবে।
  • ফাইনাল পরীক্ষার সমাপ্তির অনাধিক ১ মাসের মধ্যে ফল প্রকাশ করতে হবে।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, এই ড্রপ আউট পদ্ধতির জন্য আমার কাছের দুই বন্ধুকে হারিয়েছি, এমন অনেকেই আছে যারা তাদের ভালো বন্ধুদের হারিয়েছে। আমরা চাই আর কেউ যেন ড্রপ আউট পদ্ধতির শিকার না হয়, তাই ক্যারি অন পদ্ধতি চালু করতেই হবে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ‘আমরা কিছু দাবি কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবো এবং সেগুলো যেন কর্তৃপক্ষ কার্যকর করে তার জন্য প্রয়োজনীয় আন্দোলন গড়ে তুলবো।’