ট্রাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে রাশিয়া

প্রথমার্ধেই হয়েছে দুই গোল। এরপর স্পেন এগিয়ে যাওয়ার অনেক সুযোগ তৈরি করলেও কাজে লাগাতে পারেনি রাশিয়ার রক্ষণভাগের দৃঢ়তায়। তাই নির্ধারিত সময়ে স্পেন-রাশিয়ার লড়াই নিষ্পত্তির জন্য গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু সেখানেও জেতে রাশিয়ার রক্ষণ। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় ট্রাইব্রেকারে। সেখানে ৪-৩ গোলে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে শেষ আটে পৌছায় স্বাগতিকরা।

শুরুতে রাশিয়ার আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। সার্জিয়ো রামোসকে ঠেকাতে গিয়ে স্পেনকে গোল ‘উপহার’ দেন রাশিয়ার সার্জেই ইগনাশেভিচ। ১১ মিনিটে রুশদের আত্মঘাতী গোলে শেষ ষোলোর ম্যাচে এগিয়ে যায় স্পেন। ইস্কোর ফ্রি কিক রামোসকে পায়ে নিতে দেননি ইগনাশেভিচ। স্প্যানিশ ডিফেন্ডারকে টেনে মাটিতে ফেলে দিয়েছিলেন, কিন্তু বল রুশ ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে তাদের জালে জড়ায়। একটি লজ্জার রেকর্ড গড়েছেন ইগনাশেভিচ। সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হয়ে বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল দিলেন ৩৮ বছর ৩৫২ দিনের এই ডিফেন্ডার।

তবে বিরতিতে যাওয়ার আগেই ফেরে সমতায়। পেনাল্টি গোলে স্কোর ১-১ করে বিশ্বকাপের স্বাগতিকরা। নিজেদের বক্সের ভেতর স্প্যানিশ ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের হাতে বল লাগলে রেফারি বাজান পেনাল্টির বাঁশি। স্পট কিক থেকে পাওয়া সুযোগটা কাজে লাগাতে ভুল হয়নি রাশিয়ান ফরোয়ার্ড আরতিম জিউবা। ৪১ মিনিটে স্প্যানিশ গোলরক্ষক ডেভিড দে গেয়াকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়িয়ে রাশিয়াকে সমতায় ফেরান তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে এগিয়ে যাওয়ার বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। ৫৮ মিনিটেই যেমন ২-১ হতে পারতো স্কোরলাইন। ডিয়েগো কোস্তার ক্রস বক্সের ভেতর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রাশিয়ান ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ইসকো, কিন্তু গোলমুখে শট নেওয়ার সুযোগ পাননি রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। রাশিয়ার কড়া ডিফেন্সে আটকা পড়েন এই উইঙ্গার।

৬০ মিনিটে আবার সুযোগ আসে স্পেনের, কিন্তু হেডটা ঠিকমতো করতে পারেননি ডেভিড সিলভা। নাচোর ক্রস বক্সের ভেতর ফাঁকায় থাকলেও ম্যানচেস্টার সিটি মিডফিল্ডার সুযোগটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।

৮৫ মিনিটে আসে দ্বিতীয়ার্ধে স্পেনের সবচেয়ে ভালো সুযোগটি। কিন্তু রাশিয়ান গোলরক্ষক ইগোর আকিনফেভের বীরত্বে হতাশ হতে হয় ‘লা রোহাদের’। বাঁ প্রান্ত থেকে জোর্দি আলবার ক্রস ইয়াগো আসপাস বুক দিয়ে ঠেলে দিয়েছিলেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে। স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের হাফভলি ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন রাশিয়ান গোলরক্ষক। তার ফেরানো বলে শট করেছিলন আসপাস, কিন্তু আবারও ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন আকিনফেভ।

স্পেনের সুযোগগুলো ভেস্তে দিয়ে রাশিয়া ঠিকই ম্যাচ নিয়ে যায় অতিরিক্ত সময়ে। নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে শেষ হওয়ায় রাশিয়া বিশ্বকাপ প্রথমবার দেখে অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচ। কিন্তু সেখানেও স্পেনকে পুরো ৩০ মিনিট ঠেকিয়ে রাখে রাশিয়া। খেলা গড়ায় পেনাল্টি শুট আউটে।

পেনাল্টি শুট আউটে ৪-৩ গোলে জিতে উচ্ছ্বাসে ভাসে রাশিয়া।