জৈন্তাপুরে সংঘর্ষ ও তাণ্ডবের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

জৈন্তাপুরে সংঘর্ষ ও তাণ্ডবে পুড়িয়ে দেয়া একটি ঘর

জৈন্তাপুর উপজেলায় ওয়াজ-মাহফিলকে কেন্দ্র করে সুন্নী মতাদর্শী ও ওয়াহাবি মতাদর্শীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং বিশাল এলাকাজুড়ে তাণ্ডব ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শহিদুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রধান করে সিলেট জেলা প্রশাসন এ তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সন্দীপ কুমার সিংহ ও জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরিন করিম। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরিন করিম তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর আজ (মঙ্গলবার) থেকেই তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে কমিটির সবাই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে তিনি জানান।

এদিকে সংঘর্ষ এবং বিশাল এলাকাজুড়ে তাণ্ডব ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫ পরিবারকে সনাক্ত করেছে জেলা প্রশাসন। এসব পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ৩ হাজার টাকা ও জরুরি ত্রান সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরিন করিম।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে একটি ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র সুন্নী ও ওয়াহবি মতাদর্শীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। দু’পক্ষের সংঘর্ষে মুজ্জাম্মিল হোসেন (২৮) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সে হরিপুর মাদ্রাসার দাওরা হাদিস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। তার বাড়ি উপজেলার ডৌবাড়ী এলাকায়। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো অন্তত অর্ধশতাধিক লোক।

ঘটনার জের ধরে সেখানকার প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চালানো হয়েছে ব্যাপক তান্ডব।
পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে এসব এলাকার অন্তত ৪০ টি বাড়ি ঘর। খবর পেয়ে বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার আমবাড়িতে সোমবার সন্ধ্যায় আটরশি পীরের অনুসারীরা একটি ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে। সেখানে ইসলাম বিরোধী স্থানীয় অপর একদল মুসল্লী সেখানে হাজির হয়। এ সময় ওয়াজ মাহফিল নিয়ে দু’পক্ষ তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হলে এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রুপ নেয়। সংঘর্ষে এক মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে হরিপুর বাজার মাদ্রাসা থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্র ঘটনাস্থলে যায়।
সেখানে গিয়ে তারা ব্যাপক তান্ডব চালায়। এ সময় আমবাড়ি ও কাঠালবাড়ি এলাকার তিন কিলোমিটার এলাকার বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়। এ সময় ভয়ে পুরুষরা বাড়ি ঘর ত্যাগ করে। মহিলারা কোন রকমে আত্মরক্ষা করেন। পরিস্থিতি বেগতিক হলে রাত ২টায় ঘটনাস্থলে বিজিবি তলব করা হয়। সিলেট থেকে ছুটে যায় র‌্যাব-৯ এর সদস্যরা। তারা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ড এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি, কাউকে আটকও করা হয়নি বলে জানান জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির। তিনি বলেন, মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিহতের জানাযা শেষে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে মামলা করা হবে। তবে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।