জিন্দাবাজারে নিজের দোকানে আগুন লাগিয়ে ধরা খেলেন ব্যবসায়ী

আটক সুমাইয়া প্রিন্টার্সের স্বত্বাধিকারী নাজমুল হাসান (গোল চিহ্নিত)

নিজের দোকানে নিজেই আগুন দিয়ে অবশেষে নিজ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের হাতেই ধরা পড়লেন সিলেট নগরীর এক ছাপাখানা ব্যবসায়ী। ঘটনার দুই দিন পর মার্কেটের অন্য ব্যবসায়ীদের জেরার মুখে ধরা পড়ে পুলিশ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিজের মুখেই স্বীকার করলেন আগুন লাগানোর কারণ এবং পুরো ঘটনা।

আটক ওই ব্যবসায়ী হলেন- সুমাইয়া প্রিন্টার্সের স্বত্বাধিকারী নাজমুল হাসান।

এর আগে গত শনিবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ৭ টায় নগরীর জিন্দাবাজারস্থ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গলিতে ভয়াবহ আগুন লাগে। ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে দুটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। এই পোড়ে যাওয়া দুটি দোকানের একটি হলো সুমাইয়া প্রিন্টার্স। যার স্বত্বাধিকারী আটক নাজমুল হাসান।

অগ্নিকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, শনিবার সকালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গলির ভেতরের আর আর প্রিন্টার্স থেকে আগুনের সুত্রপাত হয় এবং মুহূর্তেই তা পার্শ্ববর্তী দোকান সুমাইয়া প্রিন্টার্সে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুটি দোকানই ভস্মীভূত হয়ে যায়। এছাড়া পাশের আরো দুটি দোকানও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সেখানে উপস্থিত হয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ফয়জুর রহমানও বলেছিলেন- বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে এ আগুনের সূত্রপাত। কিন্তু না! ফায়ার সার্ভিসের এ কথায় আস্থা রাখতে পারেন নি ব্যবসায়ীরা। তারা নিজেরাই খুঁজতে শুরু করলেন আগুন লাগার কারণ।

অগ্নিকাণ্ডের পরই নাজমুল হাসানের চাল-চলন দেখে সন্দেহ হয় ব্যবসায়ীদের। কিন্তু অবস্থা বিবেচনায় তাৎক্ষণিকভাবে এ নিয়ে তার সাথে কেউ কথা বলেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা চলছিল।

সোমবার (১১ জুন) নাজমুল হাসান মার্কেটে এলে ব্যবসায়ীরা তাকে ঘিরে ধরে জেরা শুরু করেন। তাদের জেরার মুখে নাজমুল নিজেই তার দোকানে আগুন লাগিয়েছিল বলে স্বীকার করে। পরে ব্যবসায়ীরা তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালিক রুমাইয়া ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম সাজ্জাদুল হাসান এবং কোতোয়ালি থানার এস আই আখতারুজ্জামানের হাতে তুলে।

এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল নিজেই তার ছাপাছানায় আগুন লাগিয়েছে বলে স্বীকার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল জানায়- ব্যবসায়ীক লোকসানে সে বিশাল অংকের ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তার ধারণা ছিল- দোকানে আগুন লাগিয়ে দিলে মানুষ আর তাকে ঋণ আদায়ের জন্য তাড়া করবে না। এ ধারণা থেকেই সে শনিবার নিজের দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়।

এদিকে স্বীকারোক্তির পর তাকে সিলেট কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।