জকিগঞ্জ-গোলাপগঞ্জে বিদ্রোহীতে ধরাশায়ী আ.লীগ

সিলেটের জকিগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীতে ধরাশায়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। শুধু পরাজয়ই নয়, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতেই পারেন নি তারা।

জানা গেছে, শনিবার (৩০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল ৫৮৫১ ভোট পেয়ে ফের নির্বাচিত হয়েছেন।

আর জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে নারিকেল গাছ প্রতীকে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক (বহিস্কৃত) আব্দুল আহাদ। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ২০৮৩। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক (বহিস্কৃত) ফারুক আহমদ জগ প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৮১ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসলামী সংগঠন আল ইসলাহর পৌর সভাপতি হিফজুর রহমান মোবাইল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৯৮৫ ভোট। তবে মাত্র ৬৬৯ ভোট পেয়ে আলোচনাতেই আসতে পারেন নি বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান।

তাছাড়া মেয়র পদে হ্যাঙ্গার প্রতীকে জাফরুল ইসলাম ১১৫৬ ভোট, লাঙ্গল প্রতিকে আব্দুল মালেক ফারুক ৭৫৯ ভোট, ধানের শীষ প্রতীকে ইকবাল আহমদ তাপাদার ৬০৭ ভোট ও চামচ প্রতীকে আব্দুল্লাহ আল মামুন হীরা (চামচ) ১৮৫ ভোট পেয়েছেন।

এদিকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ৫ হাজার ৮৫১ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান মেয়র জগ প্রতীকের আমিনুল ইসলাম রাবেল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পরপর সাবেক মেয়র মোবাইল প্রতীকের জাকারিয়া আহমদ পাপলু পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৪৮ ভোট, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহীন পেয়েছেন ৪ হাজার ২২২ ভোট ও প্রথমবারের মত দলীয় মনোনয়ন পাওয়া আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী মো. রুহেল আহমদ ১১৭৫ ভোট পেয়ে সবার নিচে অবস্থান করছেন।

দুটি পৌরসভায় বিদ্রোহীদের জয় নিয়ে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ। তাদের দাবি- ‘নৌকা না জিতুক আওয়ামী লীগ তো জিতেছে।’

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী না জিতলেও আওয়ামী লীগই তো জিতেছে। আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রভাব নয়, ব্যক্তি ইমেজেই জনগণ নেতা নির্বাচিত করে। তিনি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে না দিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।