ছেলেধরা সন্দেহে দক্ষিণ ভারতে গণপিটুনিতে নিহত ৫

ছেলেধরা সন্দেহে দক্ষিণ ভারতে ৫ জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও অন্তত ২০ জন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেলেধরাদের সক্রিয় হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে দক্ষিণ ভারতে উত্তেজিত জনতার রোষানলে পড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি লিখেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে যে দক্ষিণ ভারতে ছেলেধরাদের দল সক্রিয়, উত্তর ভারত থেকে যাওয়া শ্রমিক হিসেবে কাজ করা ছেলেদের তারা ধরে নিয়ে যায়। এ গুজবে বিশ্বাস করে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলার ঘটনা না ঘটানোর জন্য জনসাধারণকে সতর্ক করে দিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, গণপিটুনিতে নিহত একজন ব্যক্তি অন্ধ্র প্রদেশের। স্থানীয় না হওয়ায় তামিল ভাষা জানতেন না তিনি। সেখান থেকেই তাকে ছেলেধরা সন্দেহ করা হয় এবং গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা হয়। ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা আরেকজনের বিষয়ে জানা গেছে, তিনি রাতের বেলা একটি আমবাগানে প্রবেশ করছিলেন। পুলিশ কর্মকর্তা ইমরান কুরেশি বিবিসি হিন্দিকে বলেছেন, ‘জনসচেতনতা বাড়াতে আমরা রিকশায় মাইক লাগিয়ে জনগণের উদ্দেশে ঘোষণা প্রচার করছি।’ কবে, কোথা থেকে গুজবের যাত্রা শুরু তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কিন্তু ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, গুজবে কান না দিতে পুলিশের দেওয়া ঘোষণার পরেও তেলেঙ্গানায় ২ জনকে ছেলেধারা সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। এদের একজন নাজিমাবাদ জেলার ভিমগাল এলাকার চেনগাল গ্রামের বাসিন্দা। অন্যজন হায়দারাবাদের বিবনগরের বাসিন্দা।

ব্যাঙ্গালোর মিরর জানিয়েছে, কোপাল, বালারই, কালাবুরাগি এবং রায়চুর জেলার গ্রামগুলোতে বিনিদ্র রাত পার করছেন গ্রামবাসীরা। ছেলেধরাদের ধরতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তারা। অচেনা কাউকে দেখলে তাকে মারধর করছেন। ছেলেধরা সন্দেহে অনেককে স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি উল্লেখ করেছে, অপর একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাশাপাশি বার্তা পাঠানোর অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপকে গুজব ছড়াবার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

তেলেঙ্গানা রাজ্য পুলিশের ডিজিপি মাহেন্দার রেড্ডি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেলেধরা সম্পর্কিত গুজব ছড়ানোর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে থানায় তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাছাড়া যারা ওই গুজবের পোস্ট শেয়ার করবেন, তাদেরকেও আইনের আওতায় হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন।