ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীদের নিয়ে বসছেন প্রধানমন্ত্রী

শিগগিরই কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নতুন শীর্ষ নেতৃত্ব বেছে নিতে পদপ্রত্যাশী সব নেতাকে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ সময় বৃহৎ এ ছাত্র সংঘটনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের সাথে নিজেই কথা বলবেন তিনি।

আগামী বুধবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় গণভবনে পদপ্রত্যাশী এসব নেতার সঙ্গে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী।

এই অবস্থায় সংগঠনের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের দেড়মাসেরও বেশি সময় পর ছাত্রলীগের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনায় আবারও তোড়জোড় চালাচ্ছেন পদপ্রত্যাশী নেতারা।

ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রধান ও সংগঠনের বিদায়ী সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান লিমন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলেই ছাত্রলীগের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

ছাত্রলীগের বিদায়ী দপ্তর সম্পাদক দেলয়ার হোসেন শাহজাদা রোববার তার ফেসবুক পেইজে প্রধানমন্ত্রীর এমন উদ্যোগের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আগামী ৪ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শেষ আশ্রয়স্থল বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের সঙ্গে গণভবনে সরাসরি কথা বলবেন। যা একজন ছাত্রলীগ কর্মীর কাছে পরম পাওয়া। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী যারা মনোনয়ন ফর্ম কিনেছেন শুধুমাত্র তাদের উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে বলা হচ্ছে।’

গত ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন শীর্ষ দুই পদে নতুন নেতা নির্বাচন করা ছাড়াই শেষ হয়। নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের তালিকা থেকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওই কমিটি ঘোষণার কথা রয়েছে।

সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনেই কমিটি ঘোষণার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন সারাদেশ থেকে আসা কাউন্সিলররা। তবে জাতীয় সম্মেলনের দেড়মাসেরও বেশি সময় পর ছাত্রলীগের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তাদের ডাকায় শিগগিরই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনায় উজ্জীবীত হয়ে উঠছেন তারা।

এর আগে সংগঠনের শীর্ষ দুই পদে আসতে ইচ্ছুক ৩২৩ জন নেতা মনোয়ন ফরম ক্রয় ও জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ১১১ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ২১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছিলেন। পরে সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে ১২ মে এই তালিকাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দেন সংগঠনের বিদায়ী নেতারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বেশ কয়েকবারই জানিয়েছেন, পদপ্রত্যাশীদের তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই চলছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পরিশ্রমী, ত্যাগী, মেধাবী, নিয়মিত ছাত্র, সাহসী, শিক্ষার্থীদের মাঝে জনপ্রিয়, পরিচ্ছন্ন ইমেজ ও সাংগঠনিক দক্ষতাসম্পন্ন এবং যারা অতীত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন- তাদের মধ্য থেকেই শীর্ষ নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হবে।

বিশেষ করে অতীতের কমিটিগুলোতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের থেকে অনুপ্রবেশের অভিযোগ ওঠায় এবার কোনো অবস্থায়ই যেন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটতে না পারে- সেদিকটাতেই বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।