ছাতকে ইউপি চেয়ারম্যান সাহেল সাময়িকভাবে বরখাস্ত

ইউএনও ও প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করে ফেইসবুকে লাইভ

অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

হাওরের বোরো ফসলরক্ষা কাজের অতিরিক্ত বিল আদায়ের ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পাউবোর উপ সহকারি প্রকৌশলীকে অবরুদ্ধ রেখে লাঞ্ছিত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রচার করার ঘটনা তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইপ-১ অধিশাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ১৫ জুলাই মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মো. ইখতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন জারি হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম।

জানা যায়, গত ১৭ মে ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসকক্ষে ঢুকে সিংচাপইড় ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেল স্থানীয় চাউলীর হাওরের বাঁধের অতিরিক্ত বিল দাবি করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাছির উল্লাহ খান ও পাউবোর উপ সহকারি প্রকৌশলী সাদত হোসেনকে অবরুদ্ধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ও লাঞ্ছিত করেন তিনি। পুরো ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ৫০ মিনিট লাইভ প্রচারও করেন। ঘটনাটি ফেইসবুকে লাইভ প্রচার হওয়ায় জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি সরেজমিনে ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পান। এছাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সাহেলের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা রয়েছে। পুলিশ সেই মামলার অভিযোপত্র আদালতে দাখিল করেছে। তাছাড়াও ইউপি চেয়ারম্যান সাহেলের বিরুদ্ধে পুলিশ এসল্টসহ আরো দুইটি মামলা চলমান রয়েছে।

সিংচাপইড় ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেলকে মন্ত্রণালয় থেকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে কেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে চূড়ান্তভাবে অপসরাণ করা হবে না তার জবাব পত্র প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রেরণ করতে হবে।

সাময়িক বরখাস্ত ও মন্ত্রণালয়ের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার বিষয়ে কথা বলতে চাইলে ফোন রিসিভ করেননি বরখাস্তকৃত ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেল।