ছাতকের দুই নদীতে বন্ধ বালু উত্তোলন, বেকার শ্রমিকরা

ফাইল ছবি

ছাতকের চেলা ও পিয়াইন নদীর বালু মহালে গত দুইদিন ধরে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। ফলে বালু উত্তোলনের কাজে জড়িত কয়েক হাজার দরিদ্র শ্রমিক এখন বেকার হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

জানা গেছে, বালু মহালে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার (২ জুন) দিনভর ছাতক বালু ব্যবসায়ী সমিতি ও সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ বালু ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে নদী সংলগ্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়। বালু মহালে ড্রেজার ব্যবহার না করতে মাইকিং করার একদিন পরই গতকাল রোববার (৩ জুন) সকালে পিয়াইন নদীতে ড্রেজার পরিচালনাকারী শ্রমিকদের সাথে বালতি দিয়ে বালু উত্তোলন শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

ওই ঘটনার পর আজ সোমবার (৪ জুন) দুপুরে চেলা নদীর মোহনা থেকে ড্রেজার মেশিনসহ ৩টি বালু ভর্তি নৌকা আটক করেছে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জের ছাতক ও সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রয়েছে একাধিক বালু মহাল। গত দুই বছর যাবৎ বালু মহালে ড্রেজার মেশিন দিয়ে স্বল্প খরচে বালু উত্তোলন করায় বালু উত্তোলনকারী শ্রমিকরা অনেকটাই বিপাকে পড়েছেন। শ্রমিকদের হাতের বালতি ও টুকরি দিয়ে উত্তোলনকৃত বালুর খরচ বেশি হওয়ায় বেশি দামে কেউ এসব বালু কিনতে চাইছেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, বালু ব্যবস্থাপনা আইন ২০১১ ইং সালের নিয়ম অনুযায়ী বালু মহালে শর্ত ভঙ্গ করছেন ইজারাদারগণ। ইজারার শর্ত অনুযায়ী নিজস্ব লোকবল দিয়ে বালু উত্তোলন করে খোলা জায়গায় বালু রাখার কথা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বালু উত্তোলনের চিত্র পুরোটাই ভিন্ন। ইজারাদার ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে ২ লাখ ঘনফুট বালু বিক্রয় করছেন। ড্রেজার মেশিন বন্ধে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিক আবেদন করা হলেও এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে বালু মহালের গভীরতা বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলে নদী ভাঙনের আশংকা রয়েছে।

চাটিবহর গ্রামের শ্রমিক আনোয়ার মিয়াসহ একাধিক শ্রমিক জানান, গত দুই বছর ধরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে কম মূল্যে বহিরাগত ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয় করা হচ্ছে। ফলে আমাদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে উত্তোলন করা বালু কেউ ক্রয় করতে চায় না। আমরা হাতে উত্তোলন করে ১০/১১ টাকা ফুট হিসেবে বালু বিক্রি করলেও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে তারা ৮/৯ টাকা ফুট বিক্রি করছে।

এ বিষয়ে ছাতক বাজার বালু ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি আব্দুস সত্তার জানান, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে আমাদের এলাকার কয়েক হাজার দিনমজুর শ্রমিক বেকার হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নৌকার মালিক ও বালু ব্যবসায়ীরা বালু ক্রয়ের অর্ডার না পেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।