চুড়ান্ত হয়নি আরিফের মনোনয়ন, পরিবর্তনের সম্ভাবনা

গত এক সপ্তাহজুড়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছিলো বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নাম। তবে শুরু থেকেই বিএনপির প্রার্থী চুড়ান্তের খবরে দ্বিমত করে আসছিলেন বাকি ৫ মনোনয়ন প্রত্যাশী।

সর্বশেষ রোববার (২৪ জুন) বিকালে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া এক বক্তব্যে বাকি ৫ মনোনয়ন প্রত্যাশীর কথার সত্যতা মিলেছে। সেই সাথে শুরু হয়েছে নতুন গুঞ্জন। বইছে পরিবর্তনের হাওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম বরিশাল এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী নাম আগামীকাল ঘোষণা করা হবে বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা দুই সিটি নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছি। আর আরেকটি (সিলেট) আগামীকাল জানানো হবে।’

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, সহ-সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী কাইয়ুম জালালী পংকী এবং মহানগর নেতা ছালাহ উদ্দিন রিমনসহ মোট ৬ জন দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করে তা জমা দেন।

এদিকে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শুরু থেকেই বর্তমান মেয়রের বিরুদ্ধে একাট্টা ছিলেন বাকি ৫ মনোনয়ন প্রত্যাশী। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (২১ জুন) বিএনপির চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার দেওয়া সময়ও সিলেটের ৫ নেতাই আরিফের বিরুদ্ধে নিজেদের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন। এমনকি ৫ জনই আরিফকে বিএনপির মনোনয়ন না দিতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ করেছেন।

তবে মনোনয়ন বোর্ডের এ সাক্ষাৎকার গ্রহণের পর পরই সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নাম প্রকাশিত হয়। তবে শুরু থেকেই এটিকে ভুয়া খবর বলে আসছিলেন বাকি ৫ মনোনয়ন প্রত্যাশী।

এমন খবর প্রচারের পর সিলেট ভয়েসকে দেওয়া এক বক্তব্যে মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন আরিফুল হকের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, ‘আমরা সবাই কেন্দ্রীয় নেত্রীবৃন্দকে বলেছি- যারা দলের সাথে সম্পৃক্ত নেই তাদের যেন মনোনয়ন দেয়া না হয়। কারণ মাঠের নেতাকর্মীরা খুব বিক্ষুব্ধ।’

এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। রোববার (২৪ জুন) দুপুরে সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম এ হকের বাসায় গিয়ে দোয়াও নেন এ বিএনপি নেতা।

অন্যদিকে বাকি দুই সিটিতে দলীয় মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা হলেও সিলেটের বিষয়টি এখনো আড়ালে থাকায় পুরাতনকে বদলিয়ে নতুনের বার্তা আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন বাকি ৫ মনোনয়ন প্রত্যাশী।

দল থেকে মনোনয়ন নিশ্চিত না হলেও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ প্রসঙ্গে বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘যেহেতু এখনো কাউকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি সুতরাং আমি শতভাগ আশাবাদী এ বার বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্র আমাকে মূল্যায়ন করবে। তবে কেন্দ্র যদি আমাকে না দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে নিবো।’

বর্তমান মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরীকে দলীয় মনোনয়ন প্রদানের খবর শোনা যাচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আরিফুল হককে কেন্দ্র কোন মনোনয়ন দেয়নি, কিছু মিডিয়া তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে।’

তবে আরিফুল হক চৌধুরী কোন ভুমিকা না বলে সোজাসাপ্টা ভাবেই উত্তর দিলেন। তিনি বললেন, ‘অপেক্ষা করেন, আগামীকাল শুনবেন।’

দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে কতটা আশবাদী এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আশাবাদী না হলে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতাম না। আমি আশা করছি মনোনয়ন আমিই পাবো।’

আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। আগামী ২৮ জুন পর্যন্ত চলবে মনোনয়ন জমা দেওয়া। এ নির্বাচনে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে মেয়র পদে নির্বাচন করবেন প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে মনোনীত হয়েছেন সাবেক মেয়র, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।