চিরনিদ্রায় শায়িত মাহিদ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিদ আল সালাম এর জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) বিকাল ৪টায় সিলেটের শাহজালাল মাজারে জানাজা শেষে সন্ধ্যা ৭টায় শাহজালাল(র:) এর দরগাহ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দাফনের আগে শাহজালাল মাজারে মাহিদের মরদেহ শেষ বারের মতো দেখতে জড়ো হন তার স্বজন ও সহপাঠীরা।

এদিকে মাহিদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গায়ে কাফনের কাপড় জড়িয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় শাবিপ্রবির মূল ফটক থেকে এ প্রতিবাদ কর্মসূচী শুরু করে শ্লোগানে শ্লোগানে প্রায় চার কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে শিক্ষার্থীরা নগরীর চৌহাট্টা চত্বরে এসে রাস্তায় শুয়ে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন। প্রায় দেড় ঘন্টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান নেওয়ার পর পুনরায় শ্লোগান সহকারে সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পৌঁছে জেলা প্রশাসকের হাতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন শিক্ষার্থীরা।

এসময় তাদের শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে জেলা প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের দেওয়া স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক নূমেরী জামান উপস্থিত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাহিদ হত্যার প্রতিবাদে এই আন্দোলনে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন সিলেটের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।

আন্দোলন কর্মসূচীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ‘নিরাপদ সিলেট চাই’, ‘হত্যাকারীর বিচার চাই’, ‘আমার ভাই মরলো কেন?’ এমন সব শ্লোগানে রাজপথ উত্তাল রাখেন হাজারো শিক্ষার্থী।

এদিকে চৌহাট্টা মোড়ে এই অবস্থানের কারণে প্রায় দুই ঘন্টা সময় ধরে বন্ধ থাকে নগরীর গুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সব ধরণের যান চলাচল। এসময় নগরীতে তীব্র যানজট দেখা দিলেও জরুরি সেবায় নিয়োজিত এম্বুলেন্সকে গন্তব্যে যাওয়ার পথ তৈরি করে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাই। আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট সাময়িক অসুবিধার জন্য শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মাইকে বারবার নগরবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেও শোনা গেছে।

নিহত মাহিদের সহপাঠী মাহমুদ জানান, এই আন্দোলনটি তারা ছড়িয়ে দিতে চান সারাদেশে। তারা চান না এভাবে আর কোন শিক্ষার্থীর বা অন্য কারো জীবন অকালে ঝরে যাক। মাহিদের হত্যাকারীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, রোববার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত মাহিদ আল সালামকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এসময় তারা নিয়ে যায় মাহিদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও ল্যাপটপ। তাৎক্ষনিক ভাবে আহত মাহিদকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান। ঘটনার সময় তিনি সিলেট থেকে ঢাকায় যাওয়ার জন্য কদমতলী বাস টার্মিনালের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।