চবি ও জবিতে সাংবাদিক লাঞ্ছনার নিন্দা শাবি প্রেসক্লাবের

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সংবাদ সংগ্রহকালে সংবাদকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) প্রেসক্লাব। উভয় ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন শাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মনসুর ও সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল্লাহ ওয়াসিফ।

সোমবার শাবি প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহকালে পৃথকভাবে রোববার চবিতে একজন ও জবিতে পাঁচজন সংবাদকর্মী আহত হয়। রবিবার জবিতে অন্য একটি ছাত্রসংগঠনের মিছিলের সংবাদ সংগ্রহের সময় মিছিলকারী ও সংবাদকর্মীদের উপর হামলা চালায় শাখা ছাত্রলীগ নেতারা।

এ ঘটনায় জবি সাংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি সামি সরকার, সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক লতিফুল ইসলাম, আমার সংবাদের আসলাম অর্ক, ইত্তেফাকের সংবাদদাতা আহসান জোবায়ের ও ডেইলি সান এর সাংবাদিক কবির হোসেন আহত হন। অথচ সংবাদকর্মী পরিচয় দেওয়ার পরও ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের উপর হামলা করে। একই দিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও পেশাগত দ্বায়িত্ব পালনকালে জাগো নিউজের ক্যাম্পাস প্রতিবেদক আব্দুল্লাহ রাকিবকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করে এক ছাত্রলীগ কর্মী।

অন্যদিকে একই সাংবাদিককে জবাই করে হত্যার হুমকি দিয়েছে এক ছাত্রলীগ নেতা।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন- জবিতে সাংবাদিক লাঞ্ছনার সাথে জড়িত ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজ, পরাগ, নূরে আলম, হৃদয় প্রমুখ। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছনাকারী ছাত্রলীগ কর্মীর নাম আজাদ হোসেন সাব্বির এবং একই সাংবাদিককে জবাই করার হুমকি দেন সাবেক কমিটির উপ-দফতর সম্পাদক ও ভিএক্স গ্রুপের নেতা মিজানুর রহমান বিপুল।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে আরো বলেন, এ ধরণের অতর্কিত হামলা ও লাঞ্ছনার ঘটনায় সাংবাদিকতার মত একটি স্বাধীন ও মুক্ত পেশা হুমকির সম্মুখীন হবে বলে আমরা মনে করি। আমরা চাই, শুধুমাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নয় সারা বাংলাদেশের সকল ক্যাম্পাস প্রতিবেদকদের সুরক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, রাজনৈতিক সংগঠন, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ যথেষ্ট উদার ও গণতান্ত্রিক মানসিকতা পোষণ করবেন।

তারা আরো বলেন, এ ধরনের জঘন্য হামলা ও লাঞ্ছনার শিকার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। প্রশাসনের এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা আশা করবো প্রশাসন দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। এছাড়া সাংবাদিক লাঞ্ছনার সাথে জড়িতদের আজীবন বহিস্কার করে বঙ্গবন্ধুর হাতেগড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে আগাছামুক্ত করতে শাখা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের আহ্বান জানান তারা।