চতুর্থ দিনেও আন্দোলনে উত্তাল শাবিপ্রবি

জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মৌন মিছিল ও গণস্বাক্ষর

সোমবারের ছবি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে ওয়াজেদ মিয়া আইসিটি ভবনের সিএসই, ইইই এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল করেছে। এই ৩ বিভাগ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির হাজারো শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। সকাল ১০ টায় এ মৌন মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে বেলা ১১ টার তা শেষ হয়।

এ পাশাপাশি চলে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি। হামলার প্রথম দিন থেকে এ গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু হয়ে আজ মঙ্গলবার (০৬ মার্চ) তা শেষ হয়। এরপর গণস্বাক্ষর সংবলিত পেপারগুলো শাবিপ্রবি ভিসির হাতে হস্তান্তর করে তা প্রধানমন্ত্রী বরাবরে প্রেরণ করা হয়।

এরপর বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে মৌন মিছিল করেছে শাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। শাবিপ্রবি প্রশাসনিক ভবন থেকে এ মৌন মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

এর আগে সোমবারও কর্মবিরতি ও প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির আহ্বানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন তাঁরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জাফর ইকবালের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে সমাবেশ থেকে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেছেন। তারা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ হওয়া না পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো হলো- জাফর ইকবালের উপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সঠিক তথ্যসমুহ প্রকাশ করতে হবে, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দ্রুততম সময়ের ভিতরে বিচার নিশ্চিত করতে হবে ও ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

আন্দোলনকারীরা আরও দাবি করেন, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এগুলোর মধ্যে আছে- ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, দ্রুততম সময়ে ক্যাম্পাসে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করতে হবে, নিরাপত্তা ইস্যু সুষ্ঠু সমাধানের নামে হয়রানিমূলক নিয়মনীতি প্রণয়ন না করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

তাঁদের আরও দাবি- ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা বিধানে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শাবিপ্রবির মুক্তমঞ্চে এক অনুষ্ঠান চলাকালে পেছন থেকে অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের মাথায় ও ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করে আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী এক যুবক। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।

আর অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর রাতেই হেলিকপ্টারযোগে তাঁকে ঢাকায় নেয়া হয়। ঢাকায় পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে সিএমএইচে ভর্তি করানো হয়। এখন তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।