গ্রীষ্মের শোভা সোনালী হলুদ কনকচূড়া

গ্রীষ্মকালীন প্রকৃতির শোভা বাড়ায় যে কয়টি ফুল তার মধ্যে অন্যতম কনকচূড়া। ইংরেজিতে Golden Flamboyant বা Yellow Flamboyant নামে পরিচিত। যার বৈজ্ঞানিক নাম: peltophorum pterocarpum, এটি লেগুমিনোসি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত উদ্ভিদ। গ্রীষ্মের নয়নাভিরাম সোনার মতো উজ্জ্বল মনকাড়া ফুল। অনেকের কাছে স্বর্ণচূড়া, হলুদচূড়া নামেও পরিচিত।

কনকচূড়া সু-উচ্চ পর্ণমোচী বৃক্ষ। পাতা কালচে সবুজ ও রুক্ষ। প্রধান কাণ্ড খাড়া, ধূসর বর্ণ ও মসৃণ। কোঁকড়ানো পাঁচ পাঁপড়ির সোনালী-হলুদ ফুল। মঞ্জরী উর্দ্ধমুখী। নিচ থেকে ফুল ফুটতে শুরু করে। ধীরে ধীরে ওপরের দিকের ফুল ফোটে। গাছের শাখায় শাখায় অসংখ্য ফুলে ফুটন্ত গাছ দূর থেকেই পথিকের নজর কাড়ে।

গাছ ও পাতার আকৃতি কৃষ্ণচূড়াগাছের মতোই তবে সোনালী হলুদ রংয়ের ফুল একে কৃষ্ণচূড়া থেকে আলাদা করতে সাহায্য করে। কনকচূড়ার শীতের শেষভাগে পাতা ঝরে যায়। গ্রীষ্মে নতুন কচি পাতা আর ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। ফুলে পাপড়ির সংখ্যা পাঁচটি ও পাপড়িগুলো কুঞ্চিত। ফুল ফোটে শাখার ডগার লম্বা মঞ্জরিতে।

কনকচূড়ার আদি নিবাস শ্রীলঙ্কা, আন্দামান, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া।

গ্রীষ্মের শুরুর ফুল খুবই সুন্দর। এদের ফল তামাটে। Peltophorum অর্থ ঢালবাহী; ঢালের মতো ফলের আকৃতির জন্য এই নামকরণ। ফুলের পর গুচ্ছ গুচ্ছ ফলে গাছ ভরে উঠে। বীজ ১-৩টি। বীজে চাষ করা যায়। বীজ থেকে সহজেই চারা জন্মে। ছায়াতরু হিসাবেও কনকচূড়া সমাদরযোগ্য। সারা বর্ষাকালে কয়েক বার বিক্ষিপ্তভাবে ফুল ফোটে।

কনকচূড়ার কাঠ তেমন দামী নয়, কিছু কিছু আসবাবে ব্যবহৃত হলেও খুব একটা কদর নেই।

লেখা ও আলোকচিত্র : তনুশ্রী রায়, কলকাতা থেকে।