গ্যাস সঞ্চালন চার্জ ১০ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ

গ্যাস সঞ্চালন চার্জ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গঠিত কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড জিটিসিএল প্রতি ঘনমিটারে বর্তমানে চার্জ রয়েছে দশমিক ২৬৫৪ টাকা বা প্রায় ২৭ পয়সা। বিইআরসি কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি দশমিক ৩৬৮১ টাকা বা প্রায় ৩৭ পয়সা মূল্য নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। অর্থাৎ কমিটি গ্যাসের সঞ্চালন ব্যয় প্রতি ঘনমিটারে ১০ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

সোমবার (১১ জুন) রাজধানীর টিসিবি অডিটোরিয়ামে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের উপর গণশুনানিতে এ মত দেয় কারিগরি কমিটি।

সোমবারের শুনানিতে অংশ নেন কমিশনের চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম, সদস্য আব্দুল আজিজ খান, মিজানুর রহমান, রহমান মুর্শেদ ও মাহমুদ উল হক ভুঁইয়া।

সার উৎপাদনে সর্বোচ্চ ৩৭২ শতাংশ ও বিদ্যুতে ২০৬ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। আমদানি করা উচ্চমূল্যের এলএনজির কারণে বেড়ে যাচ্ছে গ্যাসের দাম। তার প্রভাবেই কোম্পানিগুলো আকাশচুম্বী দরপ্রস্তাব করেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, এই মতের বিরোধিতা করে দাম কমানোর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম।

বিইআরসি ছাড়াও শুনানিতে অংশ নেন জিটিসিএল, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানির কর্মকর্তারা। শুনানির ফলাফল ৯০ দিন পর জানা যাবে।

আগামী ১৩ জুন অনুষ্ঠিত হবে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানোর বিষয়ে গণশুনানি। বৃহৎ এ বিতরণ কোম্পানিটি সার উৎপাদনে সর্বোচ্চ ৩৭২ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। বর্তমানে সার উৎপাদনে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম রয়েছে ২ দশমিক ৭১ টাকা। তিতাস গ্যাস ১২ দশমিক ৮০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।

তবে আবাসিকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো প্রস্তাব দেয়নি তিতাস গ্যাস। তিতাস গ্যাসের মতো একই হারে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে অন্য চারটি বিতরণ কোম্পানিও।

আগামী ১৪ জুন বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি, ১৮ জুন জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি, ১৯ কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, ২০ জুন পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, সর্বশেষ ২১ জুন সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি করবে বিইআরসি।