গোলাপগঞ্জ ও জকিগঞ্জ পৌর নির্বাচন শনিবার

সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও জকিগঞ্জ পৌরসভায় শনিবার (৩০ জানুয়ারি) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে একটানা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা।

এদিকে, জকিগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে উৎসবের আমেজ বইছে ভোটার ও প্রার্থীদের মাঝে। তবে শেষ পর্যন্ত অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া ভোট উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

জানা গেছে, ভোটকে কেন্দ্র করে গোলাপগঞ্জ ও জকিগঞ্জে থাকবে কড়া নিরাপত্তা। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে নির্বাচনী এলাকায় থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ চেকপোস্ট। দু’টি পৌরসভায় ১৮টি ভোট কেন্দ্রগুলোতে থাকছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেট জেলা নির্বাচন অফিস ইতোমধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। শুক্রবার বিকেল থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে ভোটের সরঞ্জাম পৌঁছে দেয়া হয় ভোট কেন্দ্রে। এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোলাপগঞ্জ ও জকিগঞ্জে নেয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে যানবাহন চলাচলে বিধি নিষেধের আওতায় আনা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, সিলেটের জকিগঞ্জ পৌরসভায় ৯টি ভোট কেন্দ্র ও গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় রয়েছে আরও ৯টি ভোট কেন্দ্র। এ দু’টি পৌরসভার ১৮টি ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোলাপগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার ২২ হাজার ৯শ ১৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ৬শ ৯৪ জন এবং নারী ভোটার ১১ হাজার ৩শ ১৯ জন।

অপরদিকে জকিগঞ্জে মোট ভোটার ১২ হাজার ৩৪৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৩ জন এবং নারী ভোটার ৬ হাজার ৩৪২ জন। ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা ঠেকাতে দু’টি পৌরসভায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৯ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। মাঠ পর্যায়ের ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি জকিগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় দুইজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়া এই দুই পৌরসভায় ২ প্লাটুন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। সেই সঙ্গে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ১০জন করে পুলিশ সদস্য নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবেন।

সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) লুৎফর রহমান বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে নজর রেখে ঢেলে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মাঠ পর্যায়ে থাকা পুলিশের কাজ তদারকি করবেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ভোট কেন্দ্রে যাতে ভোটাররা নিবিঘ্নে ভোট দিতে পারে সেজন্য পোশাক পরিহিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশও কাজ করবে।