ইউপি মেম্বারের নেতৃত্বে জায়গা দখল করে রাস্তা নির্মাণ!

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নে বাড়ির জায়গা দখল করে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ ওঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের বিরুদ্ধে।

ইউনিয়নের ৪ ওয়ার্ডের সদস্য বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে নিজের বাড়ির জায়গা দখল করে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ করেন ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা সাবেক সভাপতি ও মানবাধিকার কর্মী সহিদুজ্জামান পাপলু।

বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সকালে বাহাউদ্দিনের নেতৃত্বে জায়গা দখল করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ওইদিন সকালেই গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

পাপলু জানান, বাঘা ইউনিয়নের বাঘা মৌজায় মৌরশী সম্পত্তিতে তাদের বাড়ি। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে বাঘা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার বাহাউদ্দিনের নেতৃত্বে পারভেজ আহমেদ, বিলাল আহমেদ, দুলাল আহমেদ, আলী হোসেন, রুবেল আহমদ, আব্দুল আহাদ, বক্ক্র আহমেদ, নাজিম উদ্দিন, তাজিম উদ্দিন, শফিক উদ্দিন, মুসলিম উদ্দিনসহ ৩০/৪০ জনের একদল লোক জোরপূর্বক বাড়ির সীমানা প্রাচীর ও বাঁশের বেড়া ভেঙ্গে জায়গা দখল করে মাটি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করে।

সাবেক ছাত্রনেতা ও মানবাধিকার কর্মী সহিদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের মৌরশী সম্পত্তি একটি গোষ্ঠী অনেক দিন ধরে দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই জায়গায় আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম বসবাস করে আসছি। তবে গত বৃহস্পতিবারে আমরা বাড়িতে অনুপস্থিত থাকার সুযোগ নিয়ে ইউপি সদস্য বাহাউদ্দিনের নেতৃত্বে কংক্রিটের তৈরি সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলে। ঘটনার সময় বাড়িতে শুধু আমার ছোট ভাই উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আমার ছোট ভাই ও বাড়ির নারীরা বাধা দিতে গেলে, দখলবাজরা তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র রামদা, লাঠিসোটা দেখিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং বাড়ির নারীদের অকথ্য বাসায় গালাগাল করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। একজন এস আই এসে পরিদর্শন করে গেছেন। পুলিশ থাকা অবস্থায়ও সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করতে আসে। এ ঘটনায় গোলাপগঞ্জ থানায় আমরা অভিযোগ দায়ের করেছি। আমি আশা করবো, আমার বাড়ির নিরাপত্তার স্বার্থে থানা মামলা রেকর্ড করবেন এবং সন্ত্রাসীসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবেন।’

তিনি বলেন, ‘একটি স্বাধীন দেশে যদি একজন মানুষ নিজের বাড়িতে নিরাপদ থাকতে না পারে। এই যন্ত্রণা বিশাল।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বাহাউদ্দিন জানান, রাস্তাটি অভিযোগকারী মামুনুর রশিদদের মৌরসি রাস্তা ছিল। তবে অন্তত ৬০০ বছর থেকে এটি জনগণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যাবহার হয়ে আসছে। সর্বশেষ দলিলে এটাকে জনগণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

তিনি জানান, এই রাস্তা না হলে শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না। মানুষ চলাচল করতে পারছে না। যে কারণে, তিনি সড়কটি বের করেছেন।

এদিকে অভিযোগের তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই রঞ্জিত জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আপোষ মীমাংসা না হলে পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।