গাজীপুরে চলছে ভোটগ্রহণ, এক কেন্দ্র সাময়িক স্থগিত

ভোট কেন্দ্রের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে চলছে ভোটগ্রহণ। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ভোট দিচ্ছেন। মঙ্গলবার (২৬ জুন) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।

এদিকে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে কমিশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মণ্ডল। তিনি বলেন, উৎসবের আমেজে ৪২৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজর রাখছে প্রশাসন।

আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় সিটি গাজীপুরে এবার মোট ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৫ জন ও নারী ভোটার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮০১ জন। এ সিটিতে এবার নতুন ভোটার একলক্ষ ১১ হাজার। এ ছাড়া, শ্রমিক ভোটার দুই লাখের বেশি। সিটির ৫৭টি ওয়ার্ডের ৪২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩৭টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও ৮৮টিকে সাধারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।

নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা আগেই শেষ হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর থেকে পিকআপে করে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পুলিশি পাহারায় ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স পাঠানো হয়। ভোটের আগের দিন এখানে-সেখানে প্রার্থীদের পোস্টার ছাড়া বাড়তি কোনও উচ্ছ্বাস-উত্তেজনা দেখা যায়নি।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সাত জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন– আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম (নৌকা), বিএনপি মো. হাসান উদ্দিন সরকার (ধানের শীষ), ইসলামী ঐক্যজোটের ফজলুর রহমান (মিনার), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নাসির উদ্দিন (হাতপাখা), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. জালাল উদ্দিন (মোমবাতি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাজী মো. রুহুল আমিন (কাস্তে) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ আহমদ (টেবিল ঘড়ি)।

ভোটাররা বলছেন, প্রার্থী সাত জন হলেও মূল লড়াই হবে জাহাঙ্গীর আলম (নৌকা), ও মো. হাসান উদ্দিন সরকার (ধানের শীষ) এর মধ্যে।

৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন গঠিত। এসব ওয়ার্ডে কাউন্সিল পদে ৩৩৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৫৬টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৫৪ জন। এ ছাড়া, সংরক্ষিত ১৯টি ওয়ার্ডে ৮৪ নারী কাউন্সিলর নির্বাচন করছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচনে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসারের প্রায় সাড়ে ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। এর মধ্যে কেন্দ্র পাহারায় রয়েছেন পুলিশ, আনসার ও আর্মস পুলিশ ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে কয়েক হাজার সদস্য। কেন্দ্রের বাইরে ২৯ প্লাটুন বিজিবি, র‍্যাবের ৫৮টি টিম এবং পুলিশের ৫৭টি মোবাইল ও ২০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

ভোটার সচেতন এবং শিক্ষিত ও শহরকেন্দ্রীক ৬ কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট নেওয়া হবে। যান্ত্রিক জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ যাতে বুঝে-শুনে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেজন্য নগরীর ওই দু’টি ওয়ার্ডকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আর ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিবেচনায় সিটির কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার সহায়তায় নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এসব প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য আইটি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হয়েছে।

এ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং এবং পোলিং অফিসার (ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৮ হাজার ৭০৮ জন। এর মধ্যে প্রতি কেন্দ্রে একজন প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে ৪২৫ জন, প্রতিটি কক্ষে একজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে ২ হাজার ৭৬১ জন এবং প্রতিটি কক্ষে দু’জন পোলিং অফিসার হিসেবে ৫ হাজার ৫২২ জন রয়েছেন। ভোটার শনাক্ত এবং ব্যালট দিয়ে ভোট কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এসব কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ যেমন জয়ের প্রত্যাশা করছে, তেমনি জয়ের আশায় বুক বেঁধেছে বিএনপিও। যদিও আওয়ামী লীগসহ অন্য দলগুলোর আশা নির্বাচন সুষ্ঠুই হবে তবে বিএনপি আশঙ্কা করছে ভোট কারচুপির।

এদিকে, জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে কাসেমপুরের ৫নং ওয়ার্ডের বাগবাড়ী হাক্কানিয়া ছালেহিয়া আলিম মাদ্রাসায় দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ভোটগ্রহণ পুনরায় শুরু হবে বলে জানা গেছে।

কাউন্সিলর প্রার্থী দবির উদ্দিন সরকার ও সোরহাব উদ্দিন সরকার প্রার্থীর লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ভোটারদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিচ্ছে পুলিশ।

ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সালাউদ্দিন জানান, কেন্দ্রের একটি কক্ষে এক কাউন্সিলর প্রার্থীর লোকজন প্রবেশ করে সিল মারার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর কেন্দ্রের ভেতরে থাকা ভোটারসহ সবাইকে বের করে দেওয়ায় কিছু সময়ের জন্য ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। কিছুক্ষন পর পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া কাজ করছে। ভোটারদের একটা অংশ বলছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। আবার অন্য অংশ বলছে, একজনের ভোট আরেকজন দিলেও কারও কিছু করার নেই।