গণতন্ত্র উদ্ধারে জাতীয় ঐক্য চান মির্জা ফখরুল

বিএনপি কর্তৃক রাজনীতিবিদদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রিত রাজনীতিকদের প্রতি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (১৯ মে) রাজধানীর লেডিস ক্লাবে বিএনপি আয়োজিত ইফতারের প্রাক্কালে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব।

এই ইফতার অনুষ্ঠানে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নাও অংশ নেন। তবে বিএনপি নেতাদের অনুরোধ সত্ত্বেও বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছাড়া বাকিরা মঞ্চে ওঠেননি। তবে রাজনৈতিক নেতাদের সম্মানে আয়োজিত এ ইফতার আয়োজনে উপেক্ষিত ছিলেন আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ।

বিএনপির মহাসচিব তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা সব সময় বলে এসেছি, বিশ্বাস করি; আমরা মনে করি এই সংকট উত্তরণে জাতীয় ঐক্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। গণতন্ত্রকে উদ্ধারের জন্য, মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য জাতীয় শীর্ষনেতৃত্বকে এগিয়ে আসতে হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আসুন, দেশের এই প্রয়োজনে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। অধিকার আদায় করে নেই। দেশের মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করি।

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতির কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতি বছর আমরা ইফতারের আয়োজন করে থাকি। আমাদের ইফতার-আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু থাকেন আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আজকে তিনি নেই। এই সরকার তাকে মিথ্যে, ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় অন্ধ প্রকোষ্ঠে বন্দি করে রেখেছে, সেখানেই তিনি ইফতার করছেন। সবাই সে কারণে ভারাক্রান্ত। জাতির এই সংকটময় মুহূর্তে যে নেত্রী আমাদের অতীতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করেছেন আজ তিনি এই ইফতার মাহফিলে নেই।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশের এই দুঃসময়ে ও গণতন্ত্রের চরম সংকটে আমরা সবাই প্রত্যাশা করি, জাতীয় নেতৃবৃন্দ তাদের মূল্যবান অবদান রাখবেন। জাতিকে এই সংকট উত্তরণে নেতৃত্ব দেবেন।

এর আগে মির্জা ফখরুল ইফতার-প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে আমন্ত্রিত রাজনীতিকদের সঙ্গে কুশল ও সালাম বিনিময় করেন।

ইফতারে অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পারোয়ার, নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুল হালিম, নুরুল ইসলাম বুলবুল,অ্যাডভোকেট মোবারক হোসাইন,ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুর রকীব, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া প্রমুখ। বিএনপি নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মঞ্চে বসে ইফতার করেন।

এছাড়া আবদুল্লাহ আল নোমান, কামাল ইবনে ইউসুফ, শাহজাহান ওমর, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল মান্নান, জয়নাল আবেদীন, রুহুল আলম চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, আমানউল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, গোলাম আকবর খন্দকার, জিয়াউর রহমান খান, হাবিবুর রহমান হাবিব, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, শামা ওবায়েদ, আলহাজ সালাউদ্দিন আহমেদ, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, শিরিন সুলতানা, হারুনুর রশীদ, কায়সার কামাল, এবিএম মোশাররফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, আবদুস সালাম আজাদ, অঙ্গসংগঠনের কাজী আবুল বাশার, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, আনোয়ার হোসেইন, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, হাফেজ আব্দুল মালেক, শাহ মো. নেসারুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা ইফতারে অংশ নেন।

ইফতারের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তিলাভ ও তারেক রহমানের সুস্থতার জন্য দোয়া করা হয়।