খালেদার জামিন প্রশ্নে ভিন্নমত দুই আইনজীবীর

খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন মনে করেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নির্ভর করছে সরকারের সদিচ্ছার উপর। তবে অ্যাটর্নি জেনোরেল মাহবুবে আলমের মতে, এ ধরনের বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল। কারণ খালেদার জামিন আদালত দিচ্ছেন, আবার আদালতই জামিন স্থগিত করছেন।

কুমিল্লার দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের পর মঙ্গলবার (২৯ মে) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন উভয় পক্ষের এই দুই আইনজীবী।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি সরকারের সদিচ্ছার উপর নির্ভর করছে। সরকার চায় খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে, নির্বিঘ্নে বাংলাদেশে বাকশাল কায়েম করবে। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করবে। সেই স্বপ্ন কোনো দিনও সার্থক হবে না বলে আমরা বিশ্বাস করি।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের সদিচ্ছা না হলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন না, এ ধরনের বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল। কারণ এই দেশে আদালত আছে। আদালত জামিন দিচ্ছেন, আবার জামিন স্থগিতও করছেন। মামলায় তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে এবং যে সমস্ত তথ্য-উপাত্ত আছে তার উপর নির্ভর করেই তাদের বক্তব্য দিতে হবে, যুক্তিতর্ক করতে হবে। মুখরোচক বক্তব্য দিয়ে কোনো লাভ হবে না।

তিনি আরো বলেন,হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে দুটি মামলায় জামিন দিয়েছিলেন। এই জামিনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল আপিল বিভাগে যে প্রভিশনাল লিভ পিটিশন দায়ের করেছিলাম, সেটির উপর আজ শুনানি হয়েছে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ৩১ মে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করেছে। সে অবধি হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। সেই থেকে তিনি পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় করাগারে বন্দী আছেন।

ওই মামলায় আপিলের পর খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। যেটি গত ১৭ মে বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। তবে আরও কয়েকটি মামলার গ্রেফতার দেখানো হয়েছে খালেদা জিয়াকে। তার মধ্যে কুমিল্লার দুটি মামলায় হাইকোর্টের দেয়া ৬ মাসের জামিন স্থগিত করে পুর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ৩১ মে তারিখ ধার্য করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।