ক্ষিপ্ত প্রধানমন্ত্রী, বক্তব্য শেষ না করেই পালালেন সিদ্দিকী নাজমুল

মঞ্চে নাজমুল, নাজমুলের দিকে ক্ষিপ্ত প্রধানমন্ত্রীর কৌতুহলী দৃষ্টি।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্যের মাঝখানে হঠাৎ করেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সিদ্দিকী নাজমুল আলমের নাম ঘোষণা করায় প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এমন রোষানলে পড়ে বক্তব্য শেষ না করেই মঞ্চ ত্যাগ করতে বাধ্য হন সিদ্দিকী নাজমুল আলম।

শনিবার (২১ এপ্রিল) লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে বসেই তাৎক্ষণিক হাতের ইশারায় জানতে চান, সে (সিদ্দিকী নাজমুল) কিভাবে এখানে এলো। কে তাকে বক্তব্যের সুযোগ দিয়েছে। অবস্থা বেগতিক দেখে মিনিট পার হওয়ার আগেই বক্তব্য শেষ করেই মঞ্চ ও সভাস্থল ত্যাগ করেন সিদ্দিকী নাজমুল।

শনিবারের সমাবেশে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা একের পর এক বক্তব্য রাখছিলেন। এর এক পর্যায়ে সভার পরিচালক যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বক্তব্য দেয়ার জন্য সিদ্দিকী নাজমুল আলমের নাম ঘোষণা করেন। নাজমুল মাইকে এসে দাঁড়াতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দিকে ফিরে হাত নাড়িয়ে কিছু একটা বলছিলেন। তিনি পাশে বসা যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফকে ক্ষুব্ধ ভঙ্গিতে কিছু একটা বলছিলেন। এক পর্যায়ে সভার পরিচালক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুককে ডাকেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে কিছু একটা বুঝানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি দেখে সিদ্দিকী নাজমুল আলম কথা শেষ করার আগেই ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধ’ বলে বক্তব্য শেষ করেন। প্রধানমন্ত্রী এতটাই ক্ষুব্ধ ছিলেন যে, মিনিট খানেকের মধ্যে ঘটে যায় সবকিছু।

দূর থেকে দেখা এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তখন কি বলছিলেন তা শোনা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক নেতা জানান, নাজমুলকে দেখেই প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞাস করেন, ও কে? ও এখানে কি করে এলো। ওকে বক্তব্য দিতে কে বলেছে? তখন সৈয়দ ফারুক এসে প্রধানমন্ত্রীকে বলেন যে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তাকে বক্তব্য দেয়ার জন্য বলেছেন।

জানা যায়, পরবর্তীতে শাহরিয়ার আলমের কাছেও এ বিষয়ে কৈফিয়ত চান প্রধানমন্ত্রী।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক লন্ডনের স্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হলভর্তি সবাই দেখেছেন নাজমুলকে কেন কিভাবে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দিতে হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী আমাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করেছেন সেটাও সবাই দেখেছেন। তাই এ নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

এদিকে মঞ্চে উপবিষ্ট যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, সিদ্দিকী নাজমুল আলমের প্রতি নেত্রী যে এতটাই ক্ষুব্ধ তা তাঁরা কখনো চিন্তাও করতে পারেন নি। বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে তাঁরা ভবিষ্যতে নাজমুলের বিষয়ে সতর্ক থাকবেন বলে জানান।

প্রসঙ্গত, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মেয়াদ পূর্ণ করার পরপরই এক অজানা কারণে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা সিদ্দিকী নাজমুল আলম। রাজপথে বিরোধী দলগুলোর ত্রাস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা নাজমুল কেন হুট করে বিদেশে পাড়ি জমালেন, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা এখনো চলমান। অনেকেই আন্দাজ করছিলেন, নাজমুল নিশ্চই এমন কোনো অপকর্ম করেছেন, যে কারণে আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহলের কাছে বিরাগভাজন হয়েছেন। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর বিরক্তি দেখে সেই অনুমানেরই সত্যতা মিললো।