ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা এসআইইউ শিক্ষার্থীদের

আগামী ২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া মিডটার্ম পরীক্ষা এবং সকল ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে অফিসিয়াল সকল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (২৬ মে) সকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্ততা পোষণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা। পরে দুপুর দেড়টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন প্রস্তাবিত ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শামীম আহমদ। প্রায় ঘন্টাব্যাপী এ কথোপকথনে তিনি শিক্ষর্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এক পর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের সকল দাবি দাওয়া মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন।

আপনি কবে দেশে এসে আমাদের সকল সমস্যা নিরসন করবেন; শিক্ষার্থীদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আগামী ৬ তারিখ দেশে এসে সকল সমস্যা নিরসন করবেন বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন। তবে মৌখিক এ আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা পুরোপুরি আশ্বস্থ হতে পারেন নি। এসময় শিক্ষার্থীরা আমাদের দাবি মানতে হবে/ মানতে হবে/ এমন নানা স্লোগান দেন। পরে আগামী ২জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া মিডটার্ম পরীক্ষা এবং সকল ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘেষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবি দীর্ঘ আট বছর থেকে সমস্যা নিরসনে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলে কার্যত কোন ভূমিকা পালন করছেন না। এ নিয়ে একাধিকবার শিক্ষার্থীরা লিখিত আবেদন করলেও তা আমলে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। তাই এবার কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে স্থায়ী সমাধান না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে গত বুধবার সমস্যা নিরসনে কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীরা ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ট্রাস্টি বোর্ড গঠন, রাষ্ট্রপতি মনোনীত ভিসি, প্রো-ভিসি, কোষাধ্যক্ষ নিয়োগসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে গত চার দিন থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বারকলিপি প্রদান এবং ক্যাম্পাসে দফায় দফায় বৈঠক করেছে। বন্ধ রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।

এদিকে ভিডিও কনফারেন্স শেষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মূখপাত্র সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজী বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জিসান বলেন, ‘আগামী ২জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া মিডটার্ম পরীক্ষা এবং সকল ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয়া হল। ‘ তবে অফিসিয়াল সকল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এবং পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (২২ মে) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের অবস্থা বর্ণনা করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সেখানে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিবাবকদের পরামর্শ দিয়েছে ইউজিসি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “কেউ অনুমোদনবিহীন কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত ক্যাম্পাস বা অননুমোদিত কোনো প্রোগ্রামে কোর্সে ভর্তি হলে তার দায়-দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি নেবে না।” এরপর থেকে দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।