ক্রিকেটে বল টেম্পারিংয়ের যতো ঘটনা

দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার চলমান টেস্টে ক্রিকেট বিশ্বজুড়ে এখন একটাই আলোচনা- বল টেম্পারিং। বল টেম্পারিং করায় ইতিমধ্যে পদ হারিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ এবং তাঁর ডেপুটি ডেভিড ওয়ার্নার।

ক্রিকেটীয় অভিধানে টেম্পারিং মানে কৃত্রিম কিছুর ব্যবহারে বলের বিকৃতি ঘটানো। যেমন- নখ দিয়ে খোঁচা দেওয়া, পায়ের বুট দিয়ে ‍মাড়ানো, গাম মিশ্রিত লালা দিয়ে বল পরিষ্কার, ক্রিমের ব্যবহার ইত্যাদি। এসব কিছুকেই দেখা গেছে টেম্পারিংয়ের অস্ত্র হিসেবে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া দল ব্যবহার করেছে টেপ! আঠালো কিছু ব্যবহার করে বল থেকে তার ফায়দা নেওয়ার কৌশল নিয়েছিলেন ব্যানক্রফট। কিন্তু টিভি-ক্যামেরার সম্প্রচারের যুগে বিষয়টি আর চাপা থাকেনি।

তবে ক্রিকেটে বল টেম্পারিং নতুন কিছু নয়। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটিয়ে শাস্তির সম্মুখীন হয়েছেন অনেক ক্রিকেটার। ঘটনাগুলো ক্রিকেটে হাজারবার ঘটলেও কখন প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটেছে তা এখনও গবেষণার বিষয়। তবে বিষয়গুলো চোখে পড়া শুরু করেছে ক্যামেরার আধুনিকতায়। তেমন কিছু টেম্পারিং বিষয়ক আলোচিত ঘটনা তুলে ধরা হলো-

১৯৯৪ সালে পকেটে বালি রেখে মাঠে নেমেছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক মাইক আথারটন। পকেট থেকে বালি নিয়ে বলে ঘষেছিলেন তিনি। আর এই ঘটনা ধরা পড়ে টিভি ক্যামেরাতে। আথারটনের বিরুদ্ধে টেম্পারিং এর অভিযোগ আনা হলে ম্যাচ রেফারির কাছে মিথ্যা বলেন আথারটন। বলেন, হাত শুকাতেই পকেটে বালি রেখেছিলেন তিনি! তবে তাঁর এই যুক্তি মেনে নেন নি ম্যাচ রেফারি। তাকে জরিমানা করা হয় ২ হাজার পাউন্ড।

এর আগে অবশ্য ১৯৯১ সালে সুইংয়ের কারিগর ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিসকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি করেছিল ইংলিশ ক্রিকেট। তখন কাউন্টি ক্রিকেটে ঈর্ষণীয় সাফল্য পেয়েছিলেন দুই কিংবদন্তি। এমনকি আকিব জাভেদও ছিলেন সেই আলোচনায়। কিন্তু তাদের এমন সাফল্যে অভিযোগ আনা হয় বল টেম্পারিংয়ের। যদিও কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। আর এর তিক্ততা ছিল ১৯৯২ সালের সিরিজেও। তাদের ধারণা সেই সিরিজে টেম্পারিং করেছিলেন পাকিস্তানি বোলাররা। যদিও তা সীমাবদ্ধ থেকেছে সন্দেহের বেড়াজালেই।

২০০১ সালে ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের বিরুদ্ধেও ওঠে বল টেম্পারিঙ্গয়ের অভিযোগ। দক্ষিণ আফ্রিকার পোর্ট এলিজাবেথে ম্যাচ রেফারি মাইক ডেনিস শচীনের বিরুদ্ধে টেম্পারিংয়ের অভিযোগ আনেন। টেলিভিশন ক্যামেরায় দেখা যায়, বলের সিমকে খুঁচিয়ে দিচ্ছিলেন শচীন। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল সিমের ভেতর আটকে থাকা ঘাস তুলছিলেন তিনি। এ ঘটনায় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পান শচীন। এই টেস্ট নিয়ে উত্তেজনা এমনই পর্যায়ে ছিল যে রেফারি ডেনিসকে বর্ণবাদী হিসেবেও আখ্যা দেওয়া হয়। পরের টেস্টে তাকে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়। পরে অবশ্য টেন্ডুলকারকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় আইসিসি।

২০১৩ সালে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ আনা হয় প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিসের বিরুদ্ধে। যা তিনি স্বীকার করেছিলেন। নিজের প্যান্টের জিপারে বল ঘষেছিলেন। তাতে ৫ রানের জরিমানা তো ছিলই। সঙ্গে ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা করা হয় তাকে। এরপর ২০১৬ সালে আবারও বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় তাঁকে। যদিও প্রোটিয়া অধিনায়ক নির্দোষ দাবি করেছিলেন নিজেকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ললিপপের লালা দিয়ে বল টেম্পারিং করেছিলেন। প্লেসিস বার বার নির্দোষ প্রমাণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরেন, ‘বিষয়টি দুইভাবে দেখা যেতে পারে। একটা হচ্ছে বল টেম্পারিং, আরেকটা বলের উজ্জ্বলতা ধরে রাখার কৌশল। যেখানে টেম্পারিং মানে বলকে খুঁটে দেওয়া, আকৃতি নষ্ট করা; যেটা অবৈধ। আর উজ্জ্বলতা মানে টেম্পারিং থেকে ভিন্ন কিছু। যেটা সবাই করে। আমার কাছে মনে হয় না উজ্জ্বলতা রক্ষা করা ভুল কিছু। আমার কাছে মনে হয় না আমি ধোঁকা দেওয়ার মতো কিছু করেছিলাম। আমি বলকে উজ্জ্বল করার চেষ্টা করছিলাম। এটাতে আমি কোনও সমস্যা দেখি না।’ তবে এজন্যেও তাঁকে শাস্তি পেতে হয়।

এছাড়া বল কামড়ে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন পাকিস্তানি হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান শহীদ আফ্রিদি। সবশেষ এমন নির্লজ্জ ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে পুরো অস্ট্রেলিয়া দল।