‘কোনও ছাত্র সংগঠনের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় লিজ দেওয়া হয়নি’

ক্যাম্পাসে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের ছাত্রত্ব বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এর প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন,‘কোনও সংগঠন বা এক ব্যক্তির কাছে বিশ্ববিদ্যালয় লিজ দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাজ। কর্তৃপক্ষ তা করছে।’ ঢাবির নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছে—এমন দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শনিবার (৩০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুরুসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়। এরপর গত রবিবার (১ জুলাই) বিকালে শাহবাগ মোড়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলকারী ভেবে কয়েকজনকে মারধর করে থানায় সোপর্দ করে ছাত্রলীগ।

এদিকে সোমবার (২ জুলাই) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ ও পতাকা মিছিল করতে গেলে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুকসহ বেশ কয়েকজনের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা, হামলার সময় কয়েকজন ছাত্রীর উপর আঘাত ও গালিগালাজ করার অভিযোগ ওঠে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা নারী শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগ অস্বীকার করলেও তারা দাবি করেছেন, ‘ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্বে তারা অবস্থান করছে।’ ঢাবি হাজী মুহম্মদ মহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান বলেন, ‘কোটা সংস্কারের আন্দোলনের নামে একটি মহল ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তাদের প্রতিহত করার জন্যই আজ আমরা মাঠে আছি। আমরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেবো না।’

এদিকে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছাত্রলীগের নয় উল্লেখ করে সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘যারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদেশ উপেক্ষা করেছে, যারা তাকে কটূক্তি করেছে তাদের আমরা প্রতিহত করছি।’

ছাত্রলী নেতাদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবির প্রক্টর বলেন, ‘ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে প্রোক্টরিয়াল টিম তদন্ত করছে।’ তিনি বলেন, ‘অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছে, তখনই তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে। এখনও যারা ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করছে, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাত্রত্ব বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

সুত্র:বাংলাট্রিবিউন